নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শাহানাজ বেগমের বাড়িতে ড্রইংরুমে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তার পুত্রবধূ সুবর্ণা হক। তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। 

শনিবার চৌমুহনী পৌর নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলাকালীন বেলা ২টার দিকে হাজীপুর দক্ষিণ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রহস্যজনক এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গুলিবিদ্ধ সুবর্ণাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কীভাবে গুলিবিদ্ধ হলেন, তা নিয়ে সঠিক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি তার পরিবার। তবে পুলিশের ধারণা, অবৈধ অস্ত্র নাড়াচাড়া করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি সুবর্ণার কেবিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যথায় কাতরাচ্ছেন তিনি। সেখানে পাওয়া যায় তার শাশুড়ি শাহানাজ বেগমকে। তিনি জানান, চৌমুহনী পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে তার ভাগ্নে নৌকার প্রার্থী আক্তার হোসেন ফয়সালকে ভোট দিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে বাসায় ফেরে সুবর্ণা। এর আধাঘণ্টা পরের ঘটনা। ড্রইংরুমে দাঁড়িয়ে চা পান করছিল সে। তখন আকস্মিক কোথা থেকে এসে সুবর্ণার বাঁ পায়ে গুলি লাগে। সে চিকিৎকার করলে বাড়ির লোকজন এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়।

সুবর্ণার সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা বলতে দেননি তার পরিবারের লোকজন। তবে তার স্বামী ইমরানুর রাফি জানান, বাইরে থেকে গুলি চালানো হয়েছে। এমনটি দাবি করলেও কে, কারা এটি করতে পারে, সে বিষয়ে কিছুই বলেননি তিনি। সেই সঙ্গে বাইরে থেকে আসা গুলি কীভাবে ড্রইংরুমে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তার স্ত্রীর পায়ের পাতায় লাগল- শাহানাজ বেগম বা রাফি সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক আলমগীর হোসেন জানান, গুলিবিদ্ধ এক নারীকে বেলা ৩টা ৫ মিনিটে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অপারেশনের জন্য তাকে সার্জারি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সুবর্ণাকে অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক নুরুল ইসলাম জানান, তার বাঁ পায়ের পাতার ডান পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে বাঁ পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। এপ-রে রিপোর্ট আসার পর বিস্তারিত বলা যাবে। তবে রোগী শঙ্কামুক্ত।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি কামরুজ্জামান সিকদারের ধারণা, অবৈধ অস্ত্র নাড়াচাড়া করতে গিয়ে অসতর্কতাবশত গুলি বের হয়ে ওই নারী বিদ্ধ হতে পারেন।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, শাহানাজ বেগমের বাড়িতে গুলির ঘটনার বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু পরিবেশে চৌমুহনী পৌরসভার ভোট হয়েছে। কোথাও সংঘর্ষ বা গোলাগুলি হয়নি। আমি আশা করছি, কীভাবে চেয়ারম্যানের বাড়িতে তার পুত্রবধূ গুলিবিদ্ধ হলেন, সে রহস্য শিগগিরই উদ্ঘাটন করা যাবে।

বিষয় : গুলিবিদ্ধ বেগমগঞ্জ চেয়ারম্যানের পুত্রবধূ

মন্তব্য করুন