ঢাকা শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪

চট্টগ্রাম-৭ আসন: তথ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভোটের প্রস্তুতি জাপাসহ পাঁচ দলের

‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন’ করাই লক্ষ্য– জানিয়েছেন নামসর্বস্ব দলের নেতারা

চট্টগ্রাম-৭ আসন: তথ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভোটের প্রস্তুতি জাপাসহ পাঁচ দলের

(ওপরে বাঁ থেকে ডানে) ড. হাছান মাহমুদ, মুছা আহমেদ রানা, অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ ইকবাল হাছান, (নিচে) খোরশেদ আলম, আহমেদ রেজা, মোরশেদ আলম

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৩ | ২২:৫৬

আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালীর একাংশ) আসনে টানা দ্বিতীয়বারের সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ। সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন তিনি। নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে চট্টগ্রাম-৭ আসনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য দলের মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে এ আসনের ভোটে লড়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন জাতীয় পার্টি (জাপা), তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) ও ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থীরা। ড. হাছান মাহমুদ ছাড়া অন্য দলের সবাই নির্বাচনী ময়দানে নতুন।

বুধবার পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে চার প্রার্থী মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। এদিন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউল গণি ওসমানীর কাছ থেকে তথ্যমন্ত্রীর পক্ষে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন চট্টগ্রাম (উত্তর) জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলী শাহ। তাঁর কাছ থেকে একই দিন ফরম নিয়েছেন তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) প্রার্থী দলের উপজেলা শাখার কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক মোরশেদ আলম। এ ছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে এদিন ফরম নিয়েছেন ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী দলের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আহমেদ রেজা। 

এ আসনে জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনয়ন দিয়েছে যুব সংহতির চট্টগ্রাম (উত্তর) জেলা কমিটির সাবেক সদস্য সচিব মুসা আহমেদ রানাকে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ ইকবাল হাছান। এ দু’জন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তারা মনোনয়ন ফরম নেবেন।

ইসলামী ফ্রন্টের উপজেলা সভাপতি আলী শাহ নেছারীর দাবি, ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে তাঁর দলের প্রার্থী আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবেন। তাঁর ভাষ্য, ‘রাঙ্গুনিয়ায় আমাদের সংগঠনের অবস্থান খুব ভালো। নেতাকর্মীরা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ চান।’

এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য। এখানে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড রয়েছে। উপজেলা কমিটিও রয়েছে। নজরুল ইসলাম মনে করেন, তাঁর দলের নেতাকর্মীরা এখানে সক্রিয়। যে কারণে নির্বাচন করার মতো শক্ত অবস্থানও রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে দলীয় প্রার্থীর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছি। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রয়োজন।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শামসুল আলম তালুকদার দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব। তিনি বলেন, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি নিয়েছেন। কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করবেন। এবার এ আসনের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সব দলের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর নির্বাচন।’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের নেতৃত্বে ১৫ বছরে উপজেলায় অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে বলে দাবি করেন শামসুল আলম তালুকদার। তিনি বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়া বদলে গেছে। উন্নয়নের অসমাপ্ত কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ করতে তাঁকে জয়যুক্ত করতে হবে। আমরা জয়ের বিষয়ে আশাবাদী।’

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউল গণি ওসমানী জানিয়েছেন, বুধবার পর্যন্ত পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম নেওয়া হয়েছে। বাকিরা বৃহস্পতিবার নেবেন। তিনি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে আশাবাদী।


 

আরও পড়ুন

×