ফুটপাতের দু'পাশে সাজানো রয়েছে সারি সারি বই। ব্যস্ত সড়কের পাশে ফুটপাতে বইয়ের পসরা দেখে অবাক চোখে তাকিয়ে আছেন পথচারীরা। ভিড় দেখে উৎসুক মানুষ থমকে দাঁড়াচ্ছেন। কেউ কেউ বই হাতে নিয়ে পড়ছেন, কেউ ছবি তুলছেন। ফুটপাতে বইয়ের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন বিস্মিত করছে অনেককে।

অবাক করা এ দৃশ্যটি খুলনা নগরীর শিববাড়ী মোড়ের। কেডিএর দৃষ্টিনন্দন সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে সিটি করপোরেশনের যে ফুটপাত, সেখানেই বসেছে বইয়ের এই নজরকাড়া আয়োজন। 'এন্টারটেইনমেন্ট অল ইন অন গ্রুপ অ্যান্ড বুক ব্যাংক' নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এর আয়োজক। তারা এক দিনের জন্য ফুটপাতের নাম দিয়েছে 'বুক রোড খুলনা'। গতকাল সোমবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে এ আয়োজন।

সরেজমিন শিববাড়ী মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে, ফুটপাত জুড়ে উৎসুক জনতার ভিড়। অনেকে দাঁড়িয়ে বই পড়ছেন। অনেকে বইয়ের পসরা দেখছেন। সীমানা প্রাচীরের খাঁজে খাঁজে বই সাজানো রয়েছে। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পাঠ্যবইসহ বিভিন্ন ধরনের বই রয়েছে সেখানে। প্রদর্শনীর পাশাপাশি বই বিতরণও করা হচ্ছে। বিনামূল্যে বই দেওয়ার কথা শুনে অনেক বইপ্রেমী ভিড় করেছেন।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা রিয়াদ আহমেদ সমকালকে বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে এমন আয়োজন হলেও বাংলাদেশে আমরাই প্রথম শুরু করলাম। খুলনা থেকে বুক রোডের যাত্রা শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে অন্যান্য শহরেও এমন আয়োজন করব। এখানে বই প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিতরণও করা হয়। তবে শর্ত দেওয়া হয়; বই পড়ার পর অবশ্যই ফেরত দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বইয়ের প্রয়োজন কখনোই শেষ হয়ে যায় না। একটি বই আপনার পড়া শেষে তার উপযোগ আপনার কাছে নাও থাকতে পারে, তবে অন্য কারও কাছে সে বইটি অতি প্রয়োজনীয়। এজন্য বই ঘরে ফেলে না রেখে ফেসবুক গ্রুপে বুক ব্যাংকের কাছে আপনাদের বইগুলো দিন। আমরা বিনামূল্যে এ বইগুলো প্রচার করব। মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী আমাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারবে।

বুক রোড থেকে বিনামূল্যে বই পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নগরীর সেন্ট জোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আশিক ইকবাল। তিনি বলেন, ফুটপাতে বই সাজানো দেখে দেখতে গিয়েছিলাম। পরে বই চাইতেই দিয়ে দিয়েছে। পুরো আয়োজন দেখে আমি বিস্মিত।