নড়াইলের কালিয়ার নবগঙ্গা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে এক যুবলীগ নেতার বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী। নদীর ভাঙন থেকে বাড়িঘর ও সম্পদ রক্ষায় মঙ্গলবার দুপুরে ওই নদীর দেওয়াডাঙ্গা-কুলসুর ঘাট এলাকার লাঠি-সোটা হাতে বিক্ষুব্দ হয়ে ওঠেন। এসময় গ্রামবাসীর চাপে যুবলীগ নেতার সহযোগীরা নদী থেকে ৩০টি বালু উত্তোলনের ড্রেজার উঠিয়ে নিয়ে স্থান ত্যাগে বাধ্য হয়।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় এক বছর ধরে কালিয়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. রবিউল ইসলাম খানের নেতৃত্বে কোন ইজারা ছাড়াই দৈনিক ৫০টি ড্রেজার মেশিনে বালু তোলা হয়। এতে আশপাশের রাস্তাসহ ফসলি জমি নদীতে বিলীন হতে শুরু করেছে।

উপজেলার নোয়াগ্রামের বাসিন্দা আসলাম, জহির মোল্লা ও ইলিয়াস মোল্যা জানান, নবগঙ্গা নদী থেকে বিরতিহীন ভাবে ১ বছরেরও বেশি সময় ধরে বালু উত্তোলনের ফলে গ্রামের একটি বাজার, ৩টি মসজিদ, ১টি মন্দিরসহ কয়েক একর ফসলি জমি নদীতে ভেঙে গেছে।

দেওয়াডাঙ্গা গ্রামের লিটন সর্দার অভিযোগ করে বলেছেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধসহ নদীর ভাঙন থেকে জনপদকে রক্ষার জন্য তারা স্থানীয প্রশাসনের কাছে কয়েকবার লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি। তাই বাধ্য হয়ে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

কালিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আনুর মোহাম্মাদ আনু বলেন, স্থানীয় প্রবাবশালী মহল বালু উত্তোলন করে কোটি টাকা আয় করছে। আর নদীর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার পাশাপশি নদীতে যাচ্ছে জনপদ ও ফসলি জমি। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি তাতে আকৃষ্ট হয়নি। তাই জীবন ও সম্পদ বাঁচাতে সাধারণ মানুষ নদী থেকে ড্রেজার তাড়াতে বাধ্য

হয়েছে।

তবে যুবলীগ নেতা মো. রবিউল ইসলাম খান অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি টেন্ডারের মাধ্যমে দেওয়াডাঙ্গা বালু মহালটি ইজারা নিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া নির্দ্ধারিত সীমানার মধ্য থেকেই তিনি বালু উত্তোলন করছেন।