মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচূড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান পুত্রসন্তানের আশায় বাল্যবিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে। ২০১৪ সালে মেয়েটি দশম শ্রেণির ছাত্রী থাকা অবস্থায় এ ঘটনা ঘটে। বাল্যবিয়ের শিকার মেয়েটির পুত্রসন্তান ভূমিষ্ঠ না হওয়ায় ওই চেয়ারম্যান তৃতীয় বিয়ে করেন। পরে ভুক্তভোগী মেয়েটি তার চেয়ারম্যান স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে ৫ বছরের মেয়েকে নিয়ে একাকী জীবন কাটাচ্ছেন। নীরবে চোখের পানি ছেড়ে চলেছেন প্রতারণার শিকার মেয়েটি।
সাবেক চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মুক্তার প্রথম স্ত্রীর সংসারে রয়েছে ৩ মেয়ে। সহায়-সম্পত্তি দেখভালের জন্য একটি ছেলে চাই তার। সেই ছেলের আশায় একই ইউনিয়নের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ২০১৪ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সাবেক চেয়ারম্যানের আগ্রহেই ওই মেয়েটিকে বিয়ে দেন তার অভিভাবক। তবে বিধির কী খেলা! পুত্রসন্তানের আশায় দ্বিতীয় বিয়ে করলেও ওই স্ত্রীও কন্যাসন্তান জন্ম দেন। রাতারাতি খোলস পাল্টে তৃতীয় বিয়ের কাজটি সেরে ফেলেন চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান। তৃতীয় স্ত্রী পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। তৃতীয় বিয়ের ব্যাপারটি দ্বিতীয় স্ত্রী মেনে নিতে পারেননি, তাই স্বামীকে তালাক দেন। একজন চেয়ারম্যানের পুত্রসন্তান প্রাপ্তির খায়েশ মেটাতে গিয়ে মেয়েটির শিক্ষাজীবন, দু'চোখ ভরা সুন্দর ভবিষ্যৎ জীবনের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
একদিকে সন্তানের প্রতি পিছুটান, অন্যদিকে সামাজিক অপবাদ নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে তাকে। সুযোগসন্ধানী এই চেয়ারম্যান বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে ভিড়েছেন। তিনি তৎকালীন মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পদধারী নেতা ছিলেন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বর্তমানে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন ওই মোখলেছুর রহমান।
এ ব্যাপারে মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ওই মেয়েকে বিয়ে করার কথা অস্বীকার করেন।