কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে উম্মেহানি মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদ হাসানকে (৪৬) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মোহাম্মদ হাসান উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নিমাইকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে উম্মেহানি মহিলা মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে ওই মাদ্রাসার পরিচালক তার অফিস কক্ষে ডেকে নেন। এ সময় বিভিন্ন কথা বলার একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে ‘আপত্তিকর’ কথা বলেন তিনি। পরিচালকের কক্ষ থেকে বের হয়ে ওই ছাত্রী তার সহপাঠীদের ঘটনাটি জানায়। পরে তার সহপাঠীদের মাধ্যমে অভিভাবকদের মাঝেও এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ জানায়, এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিভাবকরা এসে মাদ্রাসা ঘেরাও করে। এ সময় ভেতরে থাকা ছাত্রীদের চিৎকার ও চেঁচামেচিতে মাদ্রাসার পাশে বসবাসকারীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাদ্রাসা পরিচালক হাসান ও ঘটনার শিকার মাদ্রাসা ছাত্রী ও স্বাক্ষীদেরকে থানায় নিয়ে যায়। পরে ছাত্রীর অভিভাবক ও পৈয়াপাথর গ্রামের একজন বাদী হয়ে মাদ্রাসা পরিচালক মোহাম্মদ হাসানের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির লিখিত অভিযোগ করেন। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় পুলিশ শনিবার দুপুরেই অভিযুক্ত মোহাম্মদ হাসানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদেকুর রহমান বলেন, ‘মাদ্রাসা পড়ুয়া অনেক ছাত্রীর অভিভাবকের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করি। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। পরে মাদ্রাসা পরিচালক হাসানকে কারাগারে পাঠানো হয়।’

মন্তব্য করুন