যশোরের মনিরামপুরে মোটরসাইকেল ছিনতাইকারী সন্দেহে বোরহানুল কবির নামের এক কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার রাত ৮ টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান।

নিহত বোরহানুল কবির পৌরশহরের মোহনপুর এলাকার ট্রেকার চালক আহসানুল কবিরের বড় ছেলে। তিনি মনিরামপুর সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত বোরহানের বাবা ও পরিবারের লোকজন জানায়, বোরহান শনিবার সকাল নয়টার দিকে বাড়ি থেকে মনিরামপুর পৌরশহরে একটি কোচিং সেন্টারে পড়ার উদ্দেশে রওনা হন। পরে ওখানকার এক শিক্ষককের কাছ থেকে বাইসাইকেল নিয়ে তিনি উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকায় যান। দুপুর ১২ টার দিকে তিনি রাজগঞ্জ-হেলাঞ্চি সড়কের খালিয়া গ্রামের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় সেখানে মোটরসাইকেলসহ কৃঞ্চবাটি গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে নাইম হোসেনসহ আরো এক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বোরহান রাস্তার পাশে বাইসাইকেলটি রেখে নাইমকে মোটরসাইকেল সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু নাইম সেটা করতে অস্বীকৃতি জানানোর এক পর্যায়ে বোরহান জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে উঠার চেষ্টা করেন। এ সময় ছিনতাইকারী ভেবে নাইম ও তার সাথে থাকা আরেক যুবক মিলে বোরহানকে মারধোর করে। এক পর্যায়ে ছিনতাইকারী বলে চিৎকার করলে আশাপাশের লোকজন এসে বোরহানকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। পরে তাকে রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সোপর্দ করা হয়।

তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শাহাজান আলী জানান, মারধোরের পর বোরহানের মাথায় মোটরসাইকেল চালক নাইম হোসেন ইট দিয়ে আঘাত করেন। পরে খবর পেয়ে বোরহানের অভিভাবকরা দুপুর দুইটার দিকে তদন্ত কেন্দ্র থেকে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শনিবার রাতেই ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানকার চিকিৎসকরা বোরহানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক(ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, রাতেই মোটরসাইকেলসহ প্রধান আসামি নাইম হোসেনকে আটক করা হয়েছে। রোববার সকালে তাকে আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে। দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে বোরহানের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

নিহতের বাবা এবং প্রতিবেশীরা জানায়, সম্প্রতি বোরহানের মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। একবার তিনি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যারও চেষ্টা করেছেন। তিন ভাই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড় ছিলেন।