ময়মনসিংহের গৃহকর্মী নিশি আক্তারের ওপর গরম ইস্ত্রি ও কাঁটাচামচের ছ্যাঁকা দেওয়ার মতো নৃশংস নির্যাতনের ঘটনায় গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন স্বজনরা। রোববার বিকেলে বিচারকের কাছে নিজের ওপর চলা নৃশংসতার বর্ণনা শুনিয়েছে নির্যাতিত শিশুটি। একই দিন বিকেলে মামলা শেষে অভিযুক্ত গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

জেলার নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের দরিদ্র শারীরিক প্রতিবন্ধী মজিবুর রহমানের মেয়ে নিশি আক্তার। এগারো বছর বয়সী নিশিকে পাঁচ বছরের রেখে মা দিতি আক্তার নতুন বিয়ে করে চলে যান অন্যত্র। দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে কষ্টে দিন কাটছিল প্রতিবন্ধী মজিবুরের। অভাব দেখে একই এলাকার হেলাল শিশুটিকে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে দেন। প্রতি মাসে তিন হাজার ৫০০ টাকা বেতনে দেওয়া হয় কাজে। ঢাকার দৈনিক বাংলা মোড় এলাকার অগ্রণী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মিজানুর রহমান বাবুলের বাসায়। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ভৈরব বাজারে। তিনি বসবাস করেন রাজধানীর ইন্দিরা রোডের একটি বাসায়। গৃহকর্মী নিশি বাসায় কাজে যাওয়ার পর থেকেই গৃহকর্ত্রী শারমিন রহমান মুন্নি নির্যাতন চালাতেন। নির্যাতন চালাতেন গৃহকর্তা মিজানও। চার বছর ধরে মেয়েটি কাজে গেলেও পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করা ও কথা বলতে দেওয়া হতো না। যার মাধ্যমে বাসায় কাজে দেওয়া হয়েছে, সেই হেলালও সঠিক ঠিকানা দেননি। মাঝে মাঝে মোবাইল ফোনে নিশির সঙ্গে তার বাবার কথা বলিয়ে দিলেও গত সাত মাস কোনো যোগাযোগ করানো হচ্ছিল না মেয়েটির সঙ্গে।

মেয়ের খোঁজ না পেয়ে মা অসুস্থ হওয়ার খবর শুনিয়ে কৌশলে মেয়েকে দেখার সুযোগ চান মজিবুর। পরে গত শনিবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ পাটগুদাম সেতু এলাকায় নিশিকে রেখে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা আটক করে ফেলেন গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীকে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গৃহকর্তা মিজানুর রহমান, গৃহকর্ত্রী মুন্নি ও হেলালকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার বিকেলে গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

শিশু নিশি জানায়, তার শরীরে গরম ইস্ত্রি ও কাঁটা চামচ গরম করে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো।

ঢেলে দেওয়া হতো শরীরে গরম পানি। রোববার বিকেলে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দির জন্য মেয়েটিকে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন নির্যাতিত হওয়া মেয়েটি ছিল ভয়ার্ত।
শারীরিক প্রতিবন্ধী মজিবুর একটি বাঁশের লাঠি হাতে আদালত চত্বরে ঘুরে নিজের মেয়ের ওপর হওয়া অত্যাচারের বিচার দাবি করেন। মানবাধিকার জোটের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু বলেন, গৃহকর্মীদের ওপর নৃশংস নির্যাতন কখনও কাম্য নয়।নির্যাতিত পরিবারগুলো তাদের কাছে সহায়তা চাইলে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেবেন।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. ফিরোজ তালুকদার বলেন, শিশুটি তার ওপর বর্বর নির্যাতনের জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে। দুই আসামির রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। রিমান্ডে এনে বিস্তারিত তথ্য বের করা হবে।