কুমিল্লায় ছুরিকাঘাতে সেনাসদস্য আবদুর রহমানকে (৩০) হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া আরেকজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে রায় ঘোষণা করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক রোজিনা খান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) অ্যাডভোকেট মাসুদ ইকবাল চৌধুরী।

রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পলাতক রয়েছেন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি।  

তিনি জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে সিরাজুল ইসলাম ওরফে বাবুল, চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মৌলভীপাড়া ইস্কান্দর বাড়ির রফিক মিয়ার ছেলে নয়ন মিয়া ওরফে জনি, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার উজ্জ্বল মিয়া ও হবিগঞ্জের আলী আক্কাস। আর ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম আলী আক্কাস। তিনিও ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা। এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২১ অক্টোবর চলন্ত ট্রেনে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীদের ছুরিকাঘাতে বগুড়া সেনানিবাসের ওয়ান সিগ্যনাল ব্যাটেলিয়ান সদস্য আবদুর রহমান (৩০) নিহত হন। ওইদিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের নাঙ্গলকোট রেল স্টেশনের অদূরে গোত্রশাল নামক স্থানে রেললাইনের মাঝখান থেকে তার লাশ উদ্ধার করে লাকসাম রেলওয়ে থানা পুলিশ। নিহত ওই সেনাসদস্যের বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার মদনেরগাঁও গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে। 

এ ঘটনায় মফিজুর রহমান বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন লাকসাম রেলওয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসামিদের নাম অজ্ঞাত বলে উল্লেখ করা হয়। সেনাসদস্য আবদুর রহমান উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে বগুড়া সেনানিবাস থেকে তিনদিনের ছুটিতে চট্টগ্রামের পটিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে কর্মস্থলে ফেরার পথে চলন্ত ট্রেনে নিহত হন তিনি।

এদিকে, এ হত্যার ঘটনায় ওই বছরের ২৫ অক্টোবর দুইজনকে আটক করে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে থানা পুলিশ। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে আটক বাবুল ও জনি স্বীকার করেন, তারা ট্রেনের ছাদে ওই সেনাসদস্যের মালামাল প্রথমে ডাকাতি করেন। এরপর তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে লাশ ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দেন। এছাড়া হত্যায় জড়িত অপর ডাকাতদের নামও প্রকাশ করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ওই দুইজন। এরপর অপর আসামিদের গ্রেপ্তার করে রেলওয়ে পুলিশ।