মানিকগঞ্জে সিংগাইরে একটি মাদ্রাসার দুই ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। ওই ছাত্ররা সোমবার বিকেলে মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রওশন জাহানের আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। পরে বিচারক অভিযুক্ত শিক্ষককে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম কাউছার আহমেদ। তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। তিনি দুই মাস আগে সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের ওই মাদ্রাসায় যোগদান করেন। 

মানিকগঞ্জ কোর্ট ইন্সপেক্টর হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, নির্যাতিত দুই ছাত্রের পক্ষে এক ছাত্রের বাবা রোববার রাতে সিংগাইর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ (সংশোধনী) ২০০৩ এর ৯(১) ধারায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সোমবার বিকেলে আদালতে ওই ছাত্ররা ২২ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। এসময় অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেলাহাজতে পাঠানো নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগকারী অভিভাবক জানান, তার ছেলে ওই আবাসিক মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র। গত ২৮ জানুয়ারি রাত নয়টার দিকে তার ছেলেকে এবং তার আগে ২১ জানুয়ারি রাত চারটার দিকে তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রকে ওই শিক্ষক বলাৎকার করেন। পরে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য শিক্ষক হুমকি দিয়ে চুপ করিয়ে রাখেন ছাত্রদের। মাদ্রাসা থেকে গত শনিবার ছেলে বাড়িতে আসার পর বলৎকারের ঘটনা জানা যায়। এরপর রোববার এলাকাবাসী ওই মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অপরাধ স্বীকার করেন। পরে তাকে বায়রা ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়া হলে চেয়ারম্যান পুলিশকে জানান। এরপর পুলিশ এসে রাতেই ওই শিক্ষক ও দুই ছাত্রকে থানায় নিয়ে যায়। সোমবার অভিযুক্ত শিক্ষক ও দুই ছাত্রকে মানিকগঞ্জ আদালতে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। পরে বিচারক অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং দুই ছাত্রকে পরিবারের জিম্মায় দিয়েছেন।

সিংগাইর থানার ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, মাদ্রসার দুই ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগে রোববার রাতে একজন অভিভাবক মামলা করেন। রাতেই অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন