রাজবাড়ীতে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষক রবিউল ইসলামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক শারমীন নিগার এ রায় দেন।

দন্ডপ্রাপ্ত রবিউল রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার খালিয়া মধুপুর গ্রামের ওমর আলী শেখের ছেলে। ওই এলাকার পারিজাত এতিমখানা বৃদ্ধাশ্রম ও এতিমখানার শিক্ষক ছিলেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পিপি অ্যড. উমা সেন। তিনি জানান, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পারিজাত এতিমখানা বৃদ্ধাশ্রম ও এতিমখানার চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করতো রবিউল। এ ছাড়া একই প্রতিষ্ঠানের আরও কয়েক ছাত্রীকে অশ্লীল ভিডিও দেখিয়ে তাদেরকে যৌন নিপীড়ন চালাতো। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পারিজাত এতিমখানা বৃদ্ধাশ্রম ও এতিমখানার ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে বালিয়াকান্দি থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তারিখে আসামি রবিউলকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি  রবিউলের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আদালতের বিচারক আসামি রবিউল ইসলামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

এ ছাড়া অপর একটি মামলায় ১০ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয় রবিউলকে। উভয় সাজা একসঙ্গে চলবে বলে আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।