প্রতিবছর মাঘের শেষ বুধবার বগুড়ায় বসে ঐতিহ্যবাহী 'পোড়াদহের মেলা'। এবার করোনাকালেও তার ব্যতিক্রম ছিল না। সূর্যোদয়ের পর থেকেই  বুধবার মেলামুখী সব সড়কে মানুষের ঢল নামে। 

শহর থেকে পূর্ব দিকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে বসা প্রাচীন এই মেলায় শুধু বগুড়ারই নয়, আশপাশের কয়েক জেলার মানুষ ভিড় করে। প্রতিবছরের মতো এবারও সবার দৃষ্টি ছিল নানা প্রজাতির বড় বড় মাছের দিকে। এরপর তারা ভিড় করেন মাছসহ নানা ফলের আকৃতির মিষ্টির দোকানে। খাট, সোফাসহ কাঠের নানা আসবাবের দোকানগুলোতেও কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন অনেকে।

পোড়াদহের মেলাটি এক দিনের হলেও আশপাশের গ্রামে জামাই উৎসব চলে তিন দিন। মেলায় ওঠা বড় মাছ আর হরেক মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়নের পাশাপাশি উপহার হিসেবে তাদের জন্য কেনা হয় কাঠের আসবাব। আজ বৃহস্পতিবার ওই স্থানেই বসবে 'বউমেলা'। সদ্য বিবাহিত নারী, অর্থাৎ নতুন বউদের জন্য চুড়ি, ফিতা ও কানের দুল এবং ইমিটেশনের গহনাসহ রূপচর্চার নানা সামগ্রীতে ঠাসা থাকবে দোকানগুলো।

পোড়াদহের মেলায় এবার সবচেয়ে বড় মাছটি ছিল বাঘাইড়, যার ওজন ছিল ৬৫ কেজি। মেলার পাশে রানীরপাড়া এলাকার শুকুর সাকিদার ক'দিন আগে যমুনা নদীর বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর নিচ থেকে ধরেছেন। প্রতি কেজি এক হাজার ৫০০ টাকা হিসাবে মাছটির দাম হাঁকলেও বিক্রি হয়েছে এক হাজার ১৫০ টাকা কেজি দরে। মেলায় এবারও মাছ আকৃতির ছয় কেজি ওজনের 'রুই মিষ্টি' তৈরি করেন গাবতলীর সৈয়দ আহম্মেদ কলেজ স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক। প্রতি কেজি ৩০০ টাকা হিসাবে বড় ওই মিষ্টির দাম ধরা হয়েছে এক হাজার ৮০০ টাকা।

মা-বাবার সঙ্গে বুধবার মেলায় গিয়েছিল বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী মীম আফরোজ। একসঙ্গে অনেক বড় মাছ আর বিশাল আকারের মিষ্টি দেখে সে দারুণ খুশি। মীম বলে, 'এত্ত বড় মাছ আর মিষ্টি আগে কখনও দেখিনি। মেলাটা অনেক মজার।'

মেলার আয়োজক কমিটির সদস্য আবু হাসান জানান, করোনা সত্ত্বেও এবার মেলায় মানুষের কমতি ছিল না। অন্যান্য বারের মতোই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ কেনাকাটা করতে এসেছেন। তিনি বলেন, সামাজিকভাবে এই মেলার গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ, এ মেলা ঘিরেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ অঞ্চলের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ভেদাভেদ ভুলে উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে।