আইনজীবী আবু হেনা মোস্তফা কামাল ওরফে মিলনের সঙ্গে রাবেয়া সুলতানা রিতুর পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হয়। ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে মিলনকে ডেকে নেয় রিতু। এর পর কৌশলে বান্ধবী সুরাইয়ার বাড়িতে নিয়ে হাত-পা বেঁধে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। এ ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মঙ্গলবার যশোরের অভয়নগর থেকে মিলনকে জীবিত উদ্ধার এবং তিন অপহরণারীকে গ্রেপ্তার করে।

বুধবার নিজ দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন। তিনি বলেন, সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার প্রতাবনগর গ্রামের এসএম হারুনুর রশিদের মেয়ে রাবেয়া সুলতানা রিতু। তার উচ্চাভিলাষী ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের বিষয়টি জানত না আইনজীবী মিলনের পরিবার। রিতু নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ও মাদকাসক্ত। এর আগেও দুটি অপরাধে জড়িত ছিল সে। স্কুলের বান্ধবী সুরাইয়ার সঙ্গে পরিকল্পনা করে তারা আইনজীবী মিলনকে অপহরণ করে। সুরাইয়া ও তার স্বামী রাজও নানা অপরাধে জড়িত। তারা মানুষকে ব্ল্যাকমেইল ও অপহরণ করে টাকা আদায় করত।

পিবিআই পুলিশ সুপার বলেন, শনিবার দুপুরে মিলন বাড়ি থেকে বের হয়ে খুলনা পাইওনিয়ার কলেজের সামনে বাগদত্তা রিতুর সঙ্গে দেখা করতে যান। তারা বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে ঘুরে বেড়ান। জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পার্কে ঘুরতে গেলে সেখানে তাদের সঙ্গে দেখা হয় সুরাইয়ার। সুরাইয়া চা পানের কথা বলে মিলন ও রিতুকে যশোরের অভয়নগর থানার একাতারপুর গ্রামের বাসায় নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে কৌশলে মিলনকে বাসায় রেখে তার বাগদত্তা রিতুকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সুরাইয়াসহ চারজন পরিকল্পনা অনুযায়ী মিলনকে বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করে এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চায়।

রেশমা শারমিন বলেন, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২০ মিনিটের দিকে মিলন তার বন্ধু হাফিজুরকে ফোন করে জানান- তিনি বিপদে আছেন, তার টাকার প্রয়োজন। তখন হাফিজ তাকে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা পাঠান। এক পর্যায়ে অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েক ব্যক্তি মিলনের ব্যবহূত মোবাইল ফোন থেকে তার বাবা ও দুলাভাইয়ের কাছে ফোন দিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তখন মিলনকে মারধর করে কান্নাকাটির আওয়াজ শোনানো হয়। মুক্তিপণ না দিলে মিলনকে হত্যা করবে বলে জানায় অপহরণকারীরা।

তিনি আরও বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি মিলনের নিখোঁজের ব্যাপারে তার বাবা সাতক্ষীরার তালা থানায় জিডি করেন। পরদিন অভয়নগর থানায় মামলা করেন মিলনের দুলাভাই শরিফুল ইসলাম। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে। ওই দিন খুলনার দৌলতপুর মাছবাজার ঘাট এলাকা থেকে জেলার দিঘলিয়া উপজেলার ফরমায়েসখানা দেয়াড়া গ্রামের আলাউদ্দিন শিকদারের ছেলে শাহীন শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বীকারোক্তিতে অভয়নগর উপজেলার একতারপুর গ্রাম থেকে জমির সরদারের ছেলে আবদুস সালাম ও রিতুর বান্ধবী সুরাইয়াকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃত আইনজীবী মিলনকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান পিবিআই পুলিশ সুপার।