বরগুনা সদর উপজেলার গোলবুনিয়ায় শিশু-কিশোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দীন হত্যার প্রায় ৯ মাস পর রহস্য উদ্‌ঘাটিত হলো। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে  বৃহস্পতিবার ভোরে নিহতের স্ত্রী ফাতেমা মিতু ও তার প্রেমিক রাজুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত বছরের ২৩ মে রাতে মারা যান সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের গয়েজ উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন। স্ত্রী মিতুর কাছে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নাসিরের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই লাশ দাফন করেন স্বজনরা। এ ঘটনার প্রায় ৯ মাস পর মিতুর প্রেমিক রাজুর হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনে নাসিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার কথোপকথনের রেকর্ড পান নাসিরের স্বজনরা। 
পরে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। মিতু বরগুনা পৌরসভার থানাপাড়া এলাকার মাহতাব হোসেনের মেয়ে এবং রাজু গোলবুনিয়া এলাকার বারেক মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, নিজের ব্যবহূত মোবাইল ফোনটি বরগুনার একটি দোকানে চার্জ করতে দেন রাজু। সেখান থেকে মোবাইল ফোনটি হারিয়ে যায়। ওই ফোনেই নাসিরকে হত্যার পরিকল্পনা এবং পরবর্তী বিষয়ে রাজু ও মিতুর কথোপকথনের রেকর্ড জমা থাকে। পরে ওই ফোনের কথোপকথন পান নাসিরের স্বজনরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ করেন নাসিরের বড় ভাই জলিল হাওলাদার।
এ বিষয়ে মামলার বাদী জলিল হাওলাদার বলেন, মিতুর কাছ থেকে নাসিরের মৃত্যুর খবর পাই। তখন কোনো সন্দেহ হয়নি। এতদিন পর রাজুর মোবাইল ফোনে থাকা কথোপকথনের বেশ কয়েকটি রেকর্ড পাই আমরা। তখন নাসিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হই।
এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক বলেন, ঘটনার আট মাস ১৯ দিন পর স্বজনরা জানতে পারেন, নাসিরকে পরিকল্পিতভাবে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে কম্বল চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্ত্রী মিতু ও প্রেমিক রাজু।
নাসির-মিতু দম্পতির সংসারে ৮ বছর বয়সী এক মেয়ে এবং ৫ বছরের এক ছেলে রয়েছে।