ফরিদপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সভায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুল হক ভোলা মাস্টারকে শোকজের (কারণ দর্শানো নোটিশ) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এক সভায় তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এক সহ-সভাপতির নামে বিষোদ্গার ও কটূক্তি করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার শহরের র্যাদফেলস ইন হোটেল মিলনায়তনে দুপুর পৌনে ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা। বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামীম হক ও এ কে আজাদ, সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা বিপুল ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস, সদস্য শামসুল আলম চৌধুরী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভী মাসুদ, যুগ্ম সম্পাদক ঝর্ণা হাসান, মাইনুদ্দিন আহমেদ মানু ও মাসুদুল হক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আবুল ফয়েজ শাহনেওয়াজ, সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম সেলিম প্রমুখ।

বৈঠক সূত্র জানায়, সভায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচি ছিল দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারের বিষয়টি। এতে দু’জন ছাড়া বাকি সবাই জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ভোলা মাস্টারের বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে এ ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। কেউ কেউ ওই বক্তব্যের জন্য তাকে দল থেকে বহিষ্কারেরও দাবি করেন।

জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা বিপুল ঘোষ বলেন, সভায় ভোলা মাস্টারের বক্তব্যের জন্য ব্যাখ্যা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য সাতদিনের সময় বেঁধে দিয়ে তাকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে পরে তার বিরুদ্ধে সংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ৭ জানুয়ারি ফরিদপুর সদরের ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ভোলা মাস্টার ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন। তার এ বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা জানান, সভার শুরুতে দলের ১০ জন প্রয়াত নেতার জন্য শোক প্রস্তাব দেন দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট অনিমেষ রায়। সভায় ফরিদপুর সদর, বোয়ালমারী ও মধুখালী পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়রদের সংবর্ধনা প্রদান, মহান ২১ ফেব্রুয়ারি পালন এবং স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।