রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের চতুর্থ দফার দ্বিতীয়দিনে আরও ১ হাজার ১১ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। 

মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ এসব রোহিঙ্গাদের নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ভাসানচরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। খবর বাসসের

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় সূত্র জানায়, কুয়াশার কারণে একটু দেরি করেই জাহাজ ছেড়েছে। মিয়ানমার ছেড়ে আসার পর এসব রোহিঙ্গা উখিয়ার বালুখালীর বিভিন্ন ক্যাম্পে ছিলেন। 

এর আগে, সোমবার বিকেলে বাসযোগে এসব রোহিঙ্গা কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছান। 

জানা যায়, এদের স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে চতুর্থ দফায় ৩ হাজার ২১ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সোমবার চতুর্থ দফার প্রথমদিনে ২ হাজার ১০ জন ভাসানচর যায়। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর শুরু হওয়া রোহিঙ্গাদের ভাসানচর স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় এনিয়ে চার দফায় ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হলো। এছাড়া অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে গত মে মাসে ভাসানচরে নিয়ে যায় সরকার, তারাও সেখানে রয়েছেন।

পর্যায়ক্রমে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচর নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সেখানে পরিচ্ছন্ন আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে।

এদিকে, উখিয়ার শরণার্থী ক্যাম্পে কর্মরত সরকারি একটি সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে প্রায় ২৩ হাজার রোহিঙ্গা ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশন করেছে। আরো অনেকের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা ও নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। আগে আশ্রয় নেওয়াসহ বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে বাস করছেন।