সুষ্ঠু ভোট করার জন্য নয় বরং সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটি বলেছে, অবৈধ ক্ষমতাসীনদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অত্যন্ত নিপুণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচন ও সুষ্ঠু ভোটের শত্রু সিইসি ও তার খয়ের খাঁ কতিপয় নির্বাচন কমিশনার।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ বলেন।

গত রোববার অনুষ্ঠিত দেশব্যাপী চতুর্থ দফায় ৫৫টি পৌরসভায় নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, 'অনাচারের ভোট নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনার যে ঝড় উঠেছে সেটিকে পাত্তাই দেয় না নির্বাচন কমিশন। সরকার নিজস্ব অবয়বে গড়ে তুলেছে এই নির্বাচন কমিশন। সুতরাং মাফিয়া চরিত্রের গভীর প্রভাব দেখা যায় সিইসিসহ কতিপয় নির্বাচন কমিশনারের আচরণে। সহিংস ভোট ডাকাতি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের দ্বারা অনুপ্রাণিত। তবে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, যিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে রয়েছেন, তিনি বিবেকের যন্ত্রণায় ভুগতে ভুগতে এখন পদত্যাগের কথা বলেছেন। তিনি যথার্থই বলেছেন, নির্বাচন ব্যবস্থা এখন গভীর খাদের কিনারে। গণতন্ত্রমনা বাংলাদেশিদের আত্মমর্যাদাকে ভুলুণ্ঠিত করেছেন সিইসি কেএম নুরুল হুদা।'

ঠাকুরগাঁও সদর, লক্ষ্মীপুরের রামগতি, ময়য়নসিংহের ত্রিশাল, নরসিংদী সদর ও মাধবদী, ফরিদপুরের নগরকান্দা, রাজশাহীর নওহাট্টা ও তাহেরপুর পৌর সভায় সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট কারচুপি ও ক্ষমতাসীনদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নানা অভিযোগে তুলে রিজভী বলেন, 'আগের ধাপগুলোর নির্বাচনের মতোই এ নির্বাচন ছিল আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দখলে। সব ভোটকেন্দ্রেই তাদের দৌরাত্ম ছিল নজীরবিহীন। ভোটকেন্দ্রগুলো ছিলো সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য। সামগ্রিকভাবে এ নির্বাচন সরকারের কর্তৃত্ববাদী শাসনের এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।'

কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'ঠাকুরগাঁও সদর পৌর নির্বাচনে নজীরবিহীন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সেখানে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীর এজেন্টরা ভোটকেন্দ্র থেকে বের হতে না চাইলে তাদের হ্যান্ডকাফ পরিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে সাধারণ ভোটারদের ধাক্কা দিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে পুলিশ ও প্রিজাইডিং অফিসার নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়েছে। রামগতি পৌরসভার নির্বাচনে ধানের শীষের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সাধারণ ভোটাররাও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে সাহস পায়নি। সেখানে কালো পর্দার বাইরে ইভিএম মেশিন স্থাপন করে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সিল মারতে বাধ্য করা হয়। নরসিংদীর মাধবদী পৌর নির্বাচনে ধানের শীষের এজেন্টদের সব কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতায় গোপন কক্ষ থেকে ব্যালট বাক্স নিয়ে এসে ভোটারদের প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করে প্রিজাইডিং অফিসার। পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করে।'

রিজভী আরও বলেন, 'অভিনব কায়দায় ভোট ডাকাতির নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কে এম নুরুল হুদা ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন। ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অবিচারের কাহিনীর প্রধান খলনায়ক কে এম নুরুল হুদা সুষ্ঠু নির্বাচনকে লাশ বানিয়ে কফিনে পেরেক মেরে দিয়েছেন। সিইসি কমিশনের দায়িত্ব নিয়েছেন সুষ্ঠু ভোট করার জন্য নয়, বরং সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী বিধান রয়েছে। কিন্তু তারা তাদের নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগ না করে সরকারের পদলেহনেই ব্যস্ত রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সব নির্বাচনে সরকারের সিলেক্টেড প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করছে।'

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় : বিএনপি সিইসির সমালোচনা

মন্তব্য করুন