কিশোরগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য সচিব মো. আবদুল মান্নানের বাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা ও এসিল্যান্ডকে মারধর এবং জেলা কারাগারে ঘুমন্ত হাজতি আব্দুল হাইকে হত্যা করার বিষয়টি ওঠে আসে। এসব ঘটনা জেলাবাসীকে উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত করেছে বলে সভায় বক্তারা বলেন। এ বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শামীম আলমের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মিজানুর রহমান, সিভিল সার্জন মজিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মাসউদ, জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মামুন মিয়া, জেলা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. আনিস শেখ, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল আলম, সাংবাদিক মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো। তবে সম্প্রতি ভৈরবে ছিনতাইকারীদের হাতে গত এক মাসে দুই ব্যক্তি খুন হওয়ার ঘটনায় সভায় ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করা হয়। এ ছাড়া জেলায় মাদক ক্রেতা ও বিক্রেতার সংখ্যাও গত দুই মাসে বেড়ে গেছে বলে সভায় একাধিক বক্তা জানান। এমনকি জেলার হাওরাঞ্চলে মাদক ঢুকে পড়েছে বলে অভিভাবকরা উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন বলে সভায় উত্থাপন করা হয়। জেলায় পাসপোর্ট অফিসের দালালের দৌরাত্ম্য কমেছে বলে সভায় জানানো হয়। লোকজন সহজেই এবং দালাল ছাড়াই ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারছেন বলে সভায় বলা হয়।

জেলা কারাগারে ৯ ফেব্রুয়ারি হাজতি মো. জাহাঙ্গীরকে গুরুতর জখমের ঘটনায় গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি ঘটনার দিন থেকে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এখনও কমিটি তদন্ত কাজ শেষ করতে পারেনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মিজানুর রহমান বলেন, তিন দফায় কিশোরগঞ্জে যে কয়টি পৌরসভা নির্বাচন হয়েছে, তা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া জেলায় কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদ দিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, জেলা কারাগারের খুনের ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। সেখানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আশা করি, জেলা কারাগারের সার্বিক বিষয়সহ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা কম সময়ের মধ্যে উদ্ঘাটিত হবে।

তিনি বলেন, কটিয়াদী উপজেলার মানিকখালিতে স্বাস্থ্য সচিবের বাড়িতে হামলার ঘটনা দুঃখজনক। এ ছাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল আলমকে লাঞ্ছিত করা এবং তাকে পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনাটিকে তিনি ন্যক্কারজনক বলে উল্লেখ করেন।