এক দশকেও নতুন খাল খনন না হওয়ায় প্রকৌশলীদের কাছে কৈফিয়ত চাইলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নবনির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

দায়িত্ব নেওয়ার চতুর্থ দিন বৃহস্পতিবার নগরের টাইগারপাসে চসিকের অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রকৌশলীদের সঙ্গে সভায় অংশ নেন তিনি। ভূমি অধিগ্রহণের কারণে খাল খননে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে বলে মেয়রকে জানান প্রকৌশলীরা। এ ছাড়া নগর ভবন নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা নিয়েও জানতে চান মেয়র।

প্রকৌশল বিভাগ জানায়, খাল খনন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ খাতে ব্যয় প্রায় এক হাজার ১১৯ কোটি টাকা, যা প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ। প্রকল্পটির ৭৫ শতাংশ সরকারি বরাদ্দের ৯১৫ কোটি টাকা ইতোমধ্যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যার ৯১১ কোটি টাকা জেলা প্রশাসন তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে; কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ খাতেই ২০৮ কোটি টাকা এবং ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৯৭ কোটি টাকা অর্থাৎ ৩০৪ কোটি টাকা সিটি করপোরেশন তহবিল থেকে ব্যয় করতে হবে। যে ব্যয়ভার বহনের সক্ষমতা সিটি করপোরেশনের নেই।

খালের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সরকারি বরাদ্দ ৭০ শতাংশ। চসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে ২৫ শতাংশ, যা ৩১৪ কোটি ৩ লাখ টাকা। খালটি খননে বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। অথচ প্রকল্পটির কাজই শুরু হয়নি।

সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, প্রকল্পটির জন্য ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। কিন্তু আইনে একসঙ্গে এই পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের টাকা ছাড়ের কোনো বিধান নেই। তাই জেলা প্রশাসন পাঁচ ভাগে ভূমি অধিগ্রহণ করছে। এ ছাড়া এলএ শাখায় মামলাও রয়েছে। কাজ শুরু করতে নিজস্ব তহবিলের টাকা দেওয়ার সামর্থ্যও নেই সিটি করপোরেশনের। খাল খনন প্রকল্পটি সংশোধন করতে হবে। এ ছাড়াও বর্তমানে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা, তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের একটি টিম সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

সভায় মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, 'সিটি করপোরেশনের একসময় সুনাম ছিল। এখন দুর্নাম বেশি। দুর্নাম ঘোচাতে হবে। দলাদলি না করে আন্তরিকভাবে সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। গুণগতমান বজায় রেখে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজ আদায় করুন। কাজের গুণগত মান নিশ্চিতে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।'

চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লেফটেন্যান্ট কর্নেল সোহেল আহমেদ, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, আবু ছালেহ, মনিরুল হুদা ও কামরুল ইসলাম সভায় উপস্থিত ছিলেন।