কুমিল্লা মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা গ্রামে গত শুক্রবার নাজমা বেগমকে (৫০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ খবর শুনে তার বড় ভাই হুমায়ুন কবির শিকদার ওরফে সবুজ (৬৬) শনিবার রাতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। সবুজ পরিবার নিয়ে থাকতেন ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সবুজ অসুস্থ থাকায় ছোট বোনের মৃত্যুর খবর তাকে দেওয়া হয়নি। শনিবার তাকে বাসায় রেখেই পরিবারের সদস্যরা মেঘনায় আসেন নাজমা বেগমকে দাফন করতে। রাতে বাসায় ফিরে সবুজের ছোট ছেলে ১২ বছরের রাব্বি বাবাকে জানায়, তার ফুপি নাজমা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় সবুজ চিৎকার দিয়ে উঠলে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে সঙ্গে সঙ্গেই তার মৃত্যু হয়। মাত্র একদিনের ব্যবধানে ভাইবোনের মৃত্যুতে ভাওরখোলা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রোববার সকাল ১০টায় ওই গ্রামের শিকদার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে সবুজের দাফন সম্পন্ন হয়।

গত ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে ভাওরখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক আব্বাসীর সঙ্গে বিরোধ চলছিল নিহত নাজমার দেবর সিরাজুল ইসলাম সিরাজের। সিরাজ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। তবে গত নির্বাচনে পরাজিত হয়ে তিনি আব্বাসীর ভয়ে ঢাকা থেকে আর এলাকায় আসতে পারেননি। গত শুক্রবার সিরাজ তার চাচাতো ভাই দিলবরের মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে ঢাকা থেকে প্রায় পাঁচ বছর পর বাড়িতে আসেন। তবে সামনে ইউপি নির্বাচন হওয়ায় সিরাজের বাড়িতে আসার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি আব্বাসী। এ জন্য ওই দিন সন্ধ্যায় আব্বাসীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায় সিরাজ ও তার ভাই আবদুস সালামের ঘরে। এ সময় তারা নাজমা বেগমসহ ছয়জনকে কুপিয়ে আহত করে। তাদের মধ্যে মারা যান নাজমা বেগম।

ওই বাড়ির বাসিন্দা লিটন আব্বাসী বলেন, হুমায়ুন কবির শিকদার সবুজ অসুস্থ থাকায় আমরা তাকে ঘটনাটি না জানানোর জন্য পরিবারের সদস্যদের বলেছি। কিন্তু তার ছোট ছেলে রাব্বি না বুঝেই বিষয়টি তাকে জানিয়ে দেয় এবং নাজমা বেগমের হত্যার ছবি দেখায়। এতে চিৎকার করে সঙ্গে সঙ্গেই মারা যান তিনি। বোনের দাফনের মাত্র দুই ঘণ্টা পরই মারা গেছেন ভাই। আর ভাইবোনের মৃত্যুতে তাদের মা আনোয়ারা বেগম পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন।

আনোয়ারা বেগম বলেন, চেয়ারম্যানসহ ঘাতকরা আমার মেয়েটাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করেছে। বোনের খুনের খবর শুনে আমার ছেলেটাও মারা গেছে। আমি খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসি চাই। তাদের ফাঁসি না দেখলে আমার বুকের জ্বালা মিটবে না।

মেঘনা থানার ওসি আবদুল মজিদ বলেন, হুমায়ুন কবির শিকদার পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন বলে শুনেছি। শনিবার রাতে তিনি মারা গেছেন। তবে এ ঘটনার কারণে তিনি মারা গেছেন কি-না বলতে পারব ন। কারণ নাজমা বেগম খুন হয়েছেন শুক্রবার আর তিনি মারা গেছেন শনিবার।

বিষয় : কুমিল্লা তাণ্ডব

মন্তব্য করুন