কুমিল্লা নগরীতে জমি নিয়ে বিরোধে ৯ মাসের এক অন্তঃসত্ত্বাকে নির্যাতনের কারণে তার নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। পরে মৃত সন্তান কোলে নিয়ে পথে পথে ঘুরেছেন ওই নারী। অবশেষে সন্ধ্যার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানা চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেছে।

শিল্পী আরমান নামের ওই নারীকে নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছে রোববার সন্ধ্যায় নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ডের পাথুরিয়াপাড়ায়। সোমবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই গৃহবধূ ছেলে সন্তান প্রসব করেন। তবে দুই ঘণ্টা পরই নবজাতকের মৃত্যু হয়।

শিল্পী ও তার স্বামী সোহেল আরমান সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা তাদের মামা আবুল কালাম ড্রাইভারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর জেরে কালামের পরিবারের লোকজন বিভিন্ন সময় তাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করেছে। এ নিয়ে থানায় চারটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। সর্বশেষ ৪ ফেব্রুয়ারি মারধরের ঘটনায় একটি জিডি করেন সোহেল। এতে কালামের পরিবার আরও ক্ষিপ্ত উঠে রোববার সন্ধ্যায় শিল্পীর পেটে লাথি মারাসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে।

শিল্পী জানান, আসামিরা তাকে মারধর ও পেটে লাথি মারায় গর্ভের সন্তান অসুস্থ হয়ে ভূমিষ্ট হওয়ার পরই মারা যায়। তার সন্তানের মৃত্যুর জন্য আসামিরাই দায়ী। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। এর আগে মৃত সন্তান কোলে নিয়ে শিল্পী ও তার স্বামী দিনভর পুলিশ ফাঁড়ি, থানা, আদালত ও সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। প্রত্যেক জায়গা থেকেই তাদের ফেরত পাঠানো হয়। শেষে কোতোয়ালি মডেল থানা মামলা নিতে রাজি হয়।

পরে শিল্পী বাদী হয়ে কালাম, তার স্ত্রী শাহনাজ, মেয়ে লিমা, ছেলে শরীফ ও আরিফের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এতে বলা হয়, অভিযুক্ত শাহনাজ শিল্পীর পেটে লাথি মারলে তার প্রসববেদনা শুরু হয়। রাতভর তীব্র যন্ত্রণা শেষে সোমবার ভোরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী হাসান জানান, শিল্পীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাতের মধ্যেই এ ঘটনায় মামলা হতে পারে। শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।