মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার খালিয়া গ্রামে রাজু আহম্মেদ হত্যা মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় স্বজনরা আদালতের মধ্যে হট্টগোল শুরু করেন এবং বাদীর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- মহম্মদপুর উপজেলার খালিয়া গ্রামের কাশেস লস্কর, আলতু লস্কর ও ইদ্রিস আলী। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ইদ্রিস আলী পলাকত রয়েছে।

জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান জানান, অর্থনৈতিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে ২০০৫ সালের ৯ জানুয়ারি খালিয়া গ্রামের মাহবুবুর রহমানের ছেলে রাজু আহম্মেদকে (২২) কে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় রাজুর বাবা দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনসহ ৪ জনের নামে মহম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ ওই বছরের মে মাসে সকল আসামিদের নামে চার্জশীট প্রদান করেন। মামলা চলাকালে বাদী মাহবুবুর রহমান ও আলতু লস্কর নামে এক আসামি মৃত্যুবরণ করেন। পরে নিহত রাজু আহম্মেদ চাচা হাফিজুর রহমানকে মামলার বাদী করা হয়। মামলার সাক্ষী প্রমাণ গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ফারজানা ইয়াসমিন মামলার অপর তিন আসামি কাশেস লস্কর, আলতু লস্কর ও ইদ্রিস আলীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা প্রদানের রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ইদ্রিস আলী পলাতক রয়েছে।

মশিউর রহমান বলেন, রায় ঘোষণা করে বিচারক এজলাস ত্যাগ করার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনরা হট্টগোল করে বাদী হাফিজুর রহমানের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আইনজীবী ও পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বাদীকে পুলিশ প্রহরায় তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

আদালত প্রাঙ্গণে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও বাদীর ওপর হামলা ও আদলতে হট্টগোলের বিষয়ে কোনো বক্তব্য প্রদান করতে রাজি হননি।