ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা পৌরসভার পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে মেয়র মোড়ে মোড়ে বসিয়েছেন ময়লার ড্রাম। শতাধিক ড্রাম বসানো হয়েছে পৌর শহরের বিভিন্ন মোড়ে। এতে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলানোতে ক্রমেই পরিচ্ছন্ন শহরে রূপ নিচ্ছে মুক্তাগাছা শহর। এর সঙ্গে যানজটমুক্ত শহর গড়তে ফুটপাত উচ্ছেদের কাজ শুরু হয়েছে। পৌর মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার ১০ দিনের মাথায় পরিচ্ছন্ন শহর দেখে অভিভুত হয়েছেন শহরবাসী।

এ শহরেই বসবাস করতেন যোলহিস্যা জমিদাররা। তারা এ শহরেই বসবাস করে বিভিন্ন এলাকা শাসন করতেন। এ জন্য মুক্তাগাছা শহরের গুরুত্ব ছিল আলাদা। দেশ স্বাধীনের পর মুক্তাগাছা পৌরসভায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দলের মেয়র নির্বাচিত হন। যখন যে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ছিল, তখন থাকেন অন্য দলের মেয়র। যে কারণে দেড়শ বছরের পুরোনো এ শহরে কাঙ্ক্ষিত কোনো উন্নতি হয়নি। অবহেলিত রয়েছে বছরের পর বছর ধরে।

দীর্ঘদিন পর বর্তমান সরকারের সঙ্গে মিল রেখে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন সরকার বিপুল ভোটের ব্যবধানে এ বছর মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি নির্বাচনের সময় পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা, যানজটমুক্ত শহর গড়ে তোলাসহ ১৭ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে পৌর মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিল্লাল হোসেন সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি তার ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন। প্রথমেই তিনি শহর পরিচ্ছন্নের কাজ হাতে নেন।

ফুটপাত দখলমুক্ত, ড্রেন পরিস্কারসহ প্রতিটি মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে ময়লা রাখার ড্রাম। শতাধিক ড্রাম বসানো হয়েছে শহরের বিভিন্ন মোড়ে। সেখান থেকে প্রতিদিন পরিচ্ছন্নকর্মীরা তাদের নির্ধারিত ট্রাকে করে ময়লা সরিয়ে নিচ্ছেন। এতে যেমন দুর্গন্ধমুক্ত হচ্ছে শহর, এর সঙ্গে পরিচ্ছন্ন শহরে রূপ নিচ্ছে মুক্তাগাছা শহর।

পৌর মেয়র বিল্লাল হোসেন সরকার বলেন, পৌরবাসীর সঙ্গে যেসব ওয়াদা দিয়ে তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন, পর্যায়ক্রমে সব ওয়াদা বাস্তবায়নে কাজ করবেন এমনটি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এর অংশ হিসেবে তিনি পরিচ্ছন্ন শহর বিনির্মাণে প্রতিটি মোড়ে মোড়ে প্রাথমিকভাবে ড্রাম বসানোসহ যানজটমুক্তের কাজ শুরু করেছেন। এর পর স্থায়ীভাবে ময়লা রাখার ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

বিষয় : মুক্তাগাছা

মন্তব্য করুন