দিনাজপুরের বিরলের বৈদ্যনাথ দেবশর্মার বিয়ে হয়েছিল প্রায় ৭৪ বছর আগে। তার একমাত্র কন্যা ঝিলকো বালার ৩ ছেলে ও ৫ মেয়ে। মেয়েকে ঘরে ৮ নাতি-নাতনি হয়েছে। তাদের ঘরে ১৯ জন সদস্য। এখন পাঁচ প্রজন্মে মোট সদস্য সংখ্যা ৫৪ জন।

তাদের বংশের রীতি মতে, বিয়ের পর পঞ্চম প্রজন্মে উর্ত্তীণ হলে পুনঃবিবাহের আয়োজন করতে হয়। আর এই রীতিকে মেনে ৯২ বছর বয়সী বৈদ্যনাথ দেবশর্মার বিয়ে হলো মহাধুমধামে। অবশ্য কনে তারই বিয়ে করা স্ত্রী ৮০ বছর বয়সী পঞ্চবালা দেবশর্মা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যনাথ দেবশর্মার বয়স যখন ১৮ তখন তার বাবা স্বর্গীয় ভেলশু দেবশর্মা ছেলেকে একই এলাকার স্বর্গীয় বিদ্যামন্ডলের ৮ বছর বয়সী মেয়ে পঞ্চবালা দেবশর্মার সঙ্গে বিয়ে দেন। ১৮ বছরের বৈদ্যনাথ দেবশর্মার বয়স ৯২ বছর আর পঞ্চবালা দেবশর্মার বয়স ৮০ পেরিয়েছে। এই ৭৪ বছরে তাদের একমাত্র মেয়ের বিয়ের পর সন্তান-নাতি-নাতনি এবং তাদের ঘরের সন্তান মিলে পাঁচ সিঁড়ি পেরিয়েছে।

তাদের বংশের রীতি অনুযায়ী, যদি কারও পাঁচ প্রজন্ম দেখার সৌভাগ্য হয় তাহলে ঈশ্বরের তুষ্টির জন্য পুনঃবিবাহের আয়োজন করতে হয়। সে অনুযায়ী এক মাস ধরেই চলছিল এ পুনঃবিবাহের আয়োজন। অবশেষে গত রোববার পঞ্জিকামতে বিবাহলগ্নে পুনঃবিবাহ সম্পন্ন হয় বর বৈদ্যনাথ দেবশর্মা ও কনে পঞ্চবালা দেবশর্মার। 

সত্যনারায়ণ পূজা, অধিবাস, বরানুগমনসহ সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছিল বিয়েতে। এমন বিয়েকে ঘিরে আনন্দও কম ছিল না।

বর বৈদ্যনাথ দেবশর্মা বলেন, '১৩ টাকা পন দিয়ে পঞ্চবালার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল আমার। বিট্রিশ আমলে ধুমধাম ছিল না। এই বিয়েতে যে আনন্দ পাচ্ছি তা বলার মতো নয়। আমার নাতি-নাতনিরাও খুব আনন্দ করেছে।'

স্ত্রী পঞ্চবালা দেবশর্মা বলেন, 'আমার যখন বিয়ে হয় তখন কিছুই বুঝি না বলতে গেলে। এখন আবার নাতি-পুতিরা বিয়ে দিল। আমার স্বামী আমাকে অনেক ভালোবাসে। তাকে ছাড়া আমি থাকতে পারি না। আমাকে ছাড়াও সে থাকতে পারে না। এই আয়োজন খুব ভালো লেগেছে।'

তাদের একমাত্র কন্যা ঝিলকো বালা বলেন, 'এই আয়োজনে আমরা আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাইকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছি। সবাই এসেছেন। এটা মূলত মঙ্গল ও পরিবারের ভালোর জন্য করেছি। আমরা যেন ভালোভাবে থাকতে পারি, ঈশ্বরের কাছে এই প্রার্থনা।'

বিয়ের আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা নাতি ফটিক চন্দ্র সরকার বলেন, 'এক মাস আগে এই আলোচনা করি। পরে পরিবারের সদস্যরা একমত হলে বিয়ের আয়োজন করি। এর আগে আমরা ধর্মীয় রীতিনীতির বিষয়গুলো নিয়ে পুরোহিতের সঙ্গে কথা বলেছি।'

বিষয় : অশীতিপর বর-কনে পুনঃবিবাহ

মন্তব্য করুন