ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

রেলওয়ে স্টেশনে বারবার আগুন, বোমা নিক্ষেপ

রেলওয়ে স্টেশনে বারবার আগুন, বোমা নিক্ষেপ

প্রতীকী ছবি

 সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী (পাবনা)

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৩ | ০৭:৫৬ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০২৩ | ০৭:৫৬

ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশন ঘিরে বারবার অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বিগ্ন রেলওয়ে, পৌর ও উপজেলা প্রশাসন। নভেম্বরজুড়ে চারটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও মেরামত করা হয়নি স্টেশনের ১৭টি সিসি ক্যামেরার একটিও। প্রতিটি ঘটনা নিয়ে মামলা ও তদন্ত কমিটি হলেও গ্রেপ্তার হয়নি কোনো আসামি, আলোর মুখ দেখেনি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন।

২ নভেম্বর কলকাতা থেকে ঈশ্বরদী হয়ে ঢাকাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেসে পেট্রোল বোমা ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এঘটনায় ১০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এরপর ৪ নভেম্বর ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে থেমে থাকা একটি ট্রেনের নিচে বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে আসামি করা হয় আটজনকে। ৫ নভেম্বর রেলওয়ে গেটে রেললাইনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া নিক্ষেপ করা হয় পাঁচটি বোমা। আসামি করা হয় ৪০ জনকে। সবশেষ গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্টেশনের ওয়াশফিডে থাকা মেইল-৯৯ আপ ট্রেনের একটি কোচে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিলে ১১টি সিট পুড়ে যায়। এখানেও সাতজনকে আসামি করা হয়। চারটি ঘটনায় মোট ৬৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এসব ঘটনায় পৃথক মামলা এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনও আসামি গ্রেপ্তার কিংবা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি।

পৌরসভার মেয়র ইছাহক আলী মালিথা বলেন, ঈশ্বরদীর মতো বড় রেলওয়ে জংশন স্টেশনের নিরাপত্তা দিতে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণসহ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

এদিকে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনের ১৭টি সিসি ক্যামেরার সবক’টি নষ্ট। বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত একটি ক্যামেরাও ঠিক করা হয়নি। ফলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঈশ্বরদীর সাধারণ মানুষ, থানা, পৌর ও উপজেলা প্রশাসন।  সংশ্লিষ্টরা রেলওয়ে জংশন স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিগগিরই সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, বারবার অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। ট্রেনযাত্রী সাবিত হাসান বলেন, সারাবছর ট্রেনে যাতায়াত করি। স্টেশনে বারবার অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ট্রেনে উঠলেই কখন কী হয় এই ভেবে টেনশনে থাকতে হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাশ বলেন, দেশের প্রাচীনতম রেলওয়ে স্টেশনে বারবার অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজারসহ (ডিআরএম) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট (এসএস) মহিউল ইসলাম জানান, ইয়ার্ডের ওয়াশফিডে ট্রেনের বগিতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাত সাতজনকে আসামি করে রেলওয়ে থানায় নাশকতা মামলা হয়েছে। চার সদস্যের তদন্ত কমিটিও হয়েছে।

রেলওয়ে থানার ওসি হারুনুজ্জামান রুমেল বলেন, প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে আলাদা মামলা হয়েছে। আসামি অজ্ঞাতপরিচয় হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করতে সমস্যা হচ্ছে।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) শাহ সূফী নূর মোহাম্মদ বলেন, খোঁজ নিয়ে তদন্তের অবস্থা জেনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×