১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবীতে অপহরণের পাঁচ দিন পর সাভারের আশুলিয়া থেকে ৬ বছরের অপহৃত এক শিশুকে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। 

অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এ ঘটনায় দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূলহোতা পলাতক রয়েছে। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- লক্ষীপুর জেলার মো. জাকির হোসেন ও ময়মনসিংহ জেলার শান্ত্ মিয়া। সোমবার র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক এ তথ্য জানান।

র‌্যাব জানায়,  গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কাঠগড়া এলাকা থেকে ৬ বছরের শিশু মো. আলী হোসেনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় একটি চক্র। পরবর্তীতে শিশুটিকে বাইপাইল এবং সায়েদাবাদ হয়ে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। পরের দিন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিশুটির পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। দুই দিনের মধ্যে দাবিকৃত টাকা না দিলে অপহৃত শিশুটিকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয়।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি দল রবিবার রাতে র‌্যাব-৭ এর সহায়তায় চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানার সেকেন্দার কলোনি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত শিশু মো. আলী হোসেনকে উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, অপহরণকারী মো. জাকির হোসেন ভিকটিমের বাবার টিনশেড বাসার ভাড়াটিয়া। অপহরণকারীরা স্থানীয় একটি গার্মেন্টস কারখানায় প্যাকিং ম্যান হিসেবে কাজ করত। চক্রটির মূল হোতা পলাতক মো. সোহান গ্রেপ্তারকৃতদের সাথে মুক্তিপণের মাধ্যমে আদায়কৃত টাকা ভাগাভাগির চুক্তি করে শিশুটিকে অপহরণ করার পরিকল্পনা করে।

পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক পলাতক আসামি মো. সোহান ভিকটিম শিশুটিকে চিপস ও খেলনা কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে অপহরণ করে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানার ভাটিয়ারি ইউনিয়নের সেকেন্দার কলোনিতে গ্রেপ্তারকৃত জাকিরের চাঁচার বাসায় নিয়ে আটক রাখে। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হলে শিশুটির বাবা বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকাও পাঠায়।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘ দিন ধরে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় অপহরণসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত। তারা খোঁজ-খবর নিয়ে ধনী পরিবারের শিশুদেরই অপহরণ করে। শিশু অপহরণকারী চক্রের মূল হোতাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন