মাইগ্রেশনের দাবিতে রাজপথে নেমেছে রংপুর নর্দান প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষার্থীরা। অনিশ্চিত শিক্ষাজীবন থেকে বেরিয়ে আসতে টানা ২৩ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে তারা। সোমবার সকাল ১০টা থেকে কলেজের ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী বুড়িরহাট সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

দুপুরে সবুজ নামে এক কলেজ কর্মচারী আন্দোলনরত পঞ্চম বর্ষের ছাত্র শিহাবকে মারধর করে। এ ঘটনায় ফুঁসে ওঠে শিক্ষার্থীরা। তারা বিক্ষোভ মিছিল করে মালিক পক্ষের লোকজনকে ধাওয়া করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে সোমবার আন্দোলনের কারণে অন্তত ১০ শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষসহ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এএইচএম এনায়েত হোসেনকে লিখিতভাবে জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। যতদিন পর্যন্ত মাইগ্রেশনের দাবি পূরণ হবে না, ততদিন পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।

শিক্ষার্থীরা বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল ডেন্টাল কাউন্সিল ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন না থাকা সত্বেও ৩ শতাধিক দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীকে ভর্তি করে কর্তৃপক্ষ। অনুমোদন পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে তারা কলেজের কার্যক্রম চালাচ্ছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আলতাফ হোসেন বলেন, নর্দান মেডিকেলের সমস্যাটা দীর্ঘদিনের। কর্তৃপক্ষ এখানে দুর্বল-ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে রয়েছে। ছাত্রদের জীবন নিয়ে ছিনিমিন খেলার কোনো অধিকার নেই তাদের।

সোমবার নর্দান প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খলিলুর রহমান প্রতিষ্ঠানে এলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন। পরে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা তাকে কলেজ থেকে বের করে আনেন। বিকেলে নর্দান প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ড. তাসকিনুর রহমান নগরীর এসোড ট্রেনিং সেন্টারে বিরুপ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নর্দান প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ সরকারি নিয়মনীতি অনুযায়ী চলছে। কলেজটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নিয়মিত অধিভুক্তি প্রাপ্ত এবং অধিভুক্তি নবায়নের মাধ্যমে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অথচ বলা হচ্ছে, মেডিকেল কলেজের কোনো অনুমোদন নেই, ভুয়া রেজিস্ট্রে নের মাধ্যমে এমবিবিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ বানোয়াট। শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশন আমাদের কোনো কার্যক্রম না।