খুলনার মতো রাজশাহীতেও অবরুদ্ধ নগরীতে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে নগরীর নাইস কনভেনশন সেন্টারে এ সমাবেশ হয়। দলটির পক্ষ থেকে নগরীর তিনটি জায়গার যেকোনো একটিতে সমাবেশ করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে তাদের বাইরে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। নাইস কনভেনশন সেন্টারেই কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়। এর আগে সমাবেশের আগের দিন সোমবার থেকে নগরীর সঙ্গে সব ধরনের বাস যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। এছাড়া মঙ্গলবার সকাল থেকে রাস্তার মোড়ে মোড়ে তল্লাশি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

মহাসমাবেশে বক্তারা বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, টিকে আছে প্রশাসন দিয়ে। সেজন্য কোনো অনুষ্ঠানে গণজমায়েত দেখলে তারা ভয় পায়। সমাবেশে যেন মানুষ না আসতে পারে সেজন্য সরকার সব ব্যবস্থা করেছে। জনগণকে সরকারের এত ভয় কেন?

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও হাবিবুর রহমান হাবিব, দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার, হারুন অর রশীদ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত, ওবায়দুর রহমান চন্দন। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে বন্ধ করতে সরকারের লোকজন পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু তারা পারেনি। খুলনা, বরিশালে সমাবেশ হয়েছে। আজকে রাজশাহীতে হয়েছে। তারা জনগণকে আর থামিয়ে রাখতে পারবে না। জনগণ সোচ্চার হয়েছে।

মিজানুর রহমান মিনু বলেন, সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে সমাবেশ হয়েছে। শেখ হাসিনা মিটিং, গাড়ি, আট জেলার যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। তাকে পরামর্শ দিয়েছে দিল্লি সরকার। দিল্লিকে পরামর্শ দিচ্ছে তেল আবিব। শেখ হাসিনা সরকার ভারতের পুতুল সরকার। বিএনপির সমাবেশে জনসমাগম দেখে সরকারের এত ভয় কেন। যদি ভয় পান তাহলে ভালো হয়ে যান।

হাবিবুর রহমান বলেন, বাস বন্ধ করে দিয়েছেন কেন, তার জবাব দিতে হবে। বাস বন্ধ করে দিয়ে কি জনগনকে আটকে রাখতে পেরেছেন, পারেননি। হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়েছে। বাস চললে লাখো মানুষ উপস্থিত হতে পারত। খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তারেক রহমানকে দেশে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। তারেক রহমান দেশে আসবেন। তিনি যেদিন বিমানবন্দরে নামবেন সেদিন হাজার নয়, কোটি কোটি বাঙালি তাকে অভ্যর্থনা জানাবে।

হারুন অর রশীদ এমপি বলেন, সকালে বাড়ি থেকে বের হলাম। পুলিশ গাড়ি আটকে বলে যাওয়া যাবে না। পুলিশকে বলেছি, আমাকে গ্রেপ্তার করতে হবে, না হয় যেতে দিতে হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষকে মুক্ত করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে যুদ্ধের দরকার। তারেক রহমান আপনি যুদ্ধের ডাক দেন। সংসদ ছেড়ে আপনার ডাকে যুদ্ধে নামব। লাঠি লাগবে? অস্ত্র লাগবে? বাঁশ লাগবে? সব দেবো।

আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক রম্নহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত ও ওবায়দুর রহমান চন্দন।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরম্নল ইসলাম মঞ্জু, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আওয়াল, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনসহ স্থানীয় এবং রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতারা।

মোড়ে মোড়ে পুলিশের তল্লাশি: মঙ্গলবার সকাল থেকে অটোরিকশা, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানে যারা নগরীতে প্রবেশ করেন তাদের রাস্তার মোড়ে মোড়ে পড়তে হয়েছে পুলিশি তলতাশিতে। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন বলেন, আমাদের মহাসমাবেশে যেন মানুষ আসতে না পারে, সেজন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।

তল্লাশির বিষয়ে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রম্নহুল কুদ্দুস বলেন, সবার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসানো হয় এবং পুলিশ তল্লাশি করে।

যানবাহন বন্ধ, ভোগান্তিতে মানুষ: সমাবেশের আগেরদিন সোমবার থেকে রাজশাহী নগরীর সঙ্গে সব ধরনের বাস যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। গতকাল সমাবেশ শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে কিছুটা বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। সকালে নগরীর সিরোইল বাস টার্মিনাল, ভদ্রা বাস স্ট্যান্ড সহ কোনো জায়গা থেকে বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। কোনো বাস প্রবেশও করেনি। ট্রেনও বন্ধ ছিল রাজশাহীতে। সমাবেশের আশপাশের রাস্ত্মাঘাট, দোকানপাট, হোটেলগুলোও বন্ধ রাখা হয়। সবধরনের বড় যান বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।

রাজশাহী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো বলেন, রাজশাহীর সমাবেশকে ঘিরে সংঘর্ষের আশঙ্কায় বাস বন্ধ রাখা হয়। যদি কেউ বাস ভাঙচুর করে তাহলে আমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হব।

মন্তব্য করুন