মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির 'দ্বিধাবিভক্ত সিদ্ধান্ত'-এর তালিকায় নিজের নাম দেখে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন হাওলাদার। 

আদৌ তিনি মুক্তিযোদ্ধা কিনা- এমন সংশয় থাকাটা তার জন্য লজ্জা ও অপমানজনক বলে জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ৬৮২ জন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা গ্রহণ করছেন। তাদের মধ্য থেকে ৩৩৬ জনের যাচাই-বাছাই তালিকায় নাম আসে। এ তালিকা থেকে আবার ২৬৩ জনকে যাচাই-বাছাই করা হয়। এই ২৬৩ জনের মধ্যে ২৬ জন 'নামঞ্জুর', ১১৮ জন 'দ্বিধাবিভক্ত' ও ১১৯ জনকে 'সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্ত' তালিকায় রাখা হয়।

'নামঞ্জুর' ও 'দ্বিধাবিভক্ত' তালিকায় থাকা অনেক মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানরা কমিটির বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগসহ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। 'দ্বিধাবিভক্ত সিদ্ধান্ত'-এর তালিকায় নাম থাকা উপজেলার পূর্ণবতী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন হাওলাদার বলেন, 'আমি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। আমার সব বৈধ কাগজপত্র আছে। ২০০৯ সাল থেকে আমি ভাতা পাচ্ছি। এখন যাচাই-বাছাইয়ের নামে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। কমিটির চারজনই সম্মানিত ব্যক্তি। আমি কারও নাম বলে কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে ছোট করতে চাই না। আমার কাছ থেকে যাচাই-বাছাইয়ের নাম করে কমিটির এক সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন। আমি অনেক কষ্ট করে এই টাকা জোগাড় করেছি। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও কমিটির দ্বিধাবিভক্ত সিদ্ধান্তের তালিকায় আমার নাম। এটা আমার জন্য অত্যন্ত লজ্জা ও দুঃখের বিষয়।'

এ বিষয়ে ইউএনও ও যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, অর্থ লেনদেনের বিষয়টি আমার জানা নেই। এ নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ অভিযোগ দিলে খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া আমরা যাচাই-বাছাইয়ের যে তালিকা জামুকা বা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি, সে বিষয়ে নতুন করে কোনো নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

বিষয় : আত্মহত্যার হুমকি মুক্তিযোদ্ধা

মন্তব্য করুন