দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের বহিস্কৃত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে সিআইডি পুলিশ।

বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের সংশ্নিষ্ট শাখায় এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস। আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৮ মার্চ দিন ধার্য করেছেন।

মামলায় অপর আসামিরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, মন্ত্রীর এপিএস এএইচএম ফুয়াদ, খন্দকার নাজমুল ইসলাম লেভী, আশিকুর রহমান ফারহান, ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ওরফে ফাহিম, কামরুল হাসান ডেভিড, মোহাম্মদ আলী দিদার ও তারিকুল ইসলাম নাসিম। তাদের অপরাধের সহযোগী ৪২ জনের মধ্যে খান মাহবুব মৃত্যুবরণ করায় তাকে বাদ দিয়ে অন্যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া বাকিদের বিরুদ্ধে তদন্তে অপরাধের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৮ সালের আগে বরকত ও রুবেলের তেমন কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ছিল না। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন বরকত। পরে খন্দকার মোশাররফ হোসেন মন্ত্রী হলে তিনি তার আস্থা অর্জন করেন। ধীরে ধীরে পুরোনো আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মন্ত্রীর দূরত্ব তৈরির মাধ্যমে তাদের দূরেও সরিয়ে দেন। এর পর আওয়ামী লীগের পুরোনো নেতাদের বহিস্কার করিয়ে মন্ত্রীর ভাই বাবর ও মন্ত্রীর এপিএস ফুয়াদকে নিয়ে নিজস্ব বলয় তৈরি করেন। অবৈধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ফরিদপুর জেলার রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে, পিডব্লিউডি, এলজিইডি, হেলথ, বিআরটিএ, পৌরসভা, বিদ্যুৎ, জেলা পরিষদ, ফ্যাসিলিটিজ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, টেপাখোলা গরুর হাট, সিঅ্যান্ডবিঘাট, মেডিকেল কলেজসহ সব ধরনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন বরকত। এ ছাড়া কমিশন বাণিজ্য, মাদক ব্যবসা, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও জেলা রেজিস্ট্রারের অফিসে দলিল-সংক্রান্ত কমিশন বাণিজ্য করে হাজার হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেন তিনি।

জানা গেছে, বরকত ও রুবেলের আপন মামা হচ্ছেন একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রাজাকার জাহিদুর রহমান খোকন। আরেক পলাতক যুদ্ধাপরাধী সালথার বড়খাড়দিয়া গ্রামের আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারও তাদের আপন খালু। এ ছাড়া ফরিদুপুর জেলার ফ্রিডম পার্টির এক সময়ের নেতা বাদশা মণ্ডল এ দুই ভাইয়ের আপন চাচা।

দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে গত বছরের ২৬ জুন বরকত ও রুবেলের বিরুদ্ধে রাজধানীর কাফরুল থানায় মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করে সিআইডি। মামলায় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দুই হাজার কোটি টাকা উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বরকত ও রুবেলের পাঁচ হাজার ৭০৬ বিঘা জমি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। পাশাপাশি তাদের বাস-ট্রাকসহ ৫৫টি গাড়িও ক্রোক করতে বলা হয়। এ ছাড়া ১৮৮টি ব্যাংক হিসাবের ৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ফ্রিজেরও আদেশ দেন আদালত।

রাজবাড়ীতে ১৯৯৪ সালের ২০ নভেম্বর এক আইনজীবী হত্যা মামলার আসামি ছিলেন এ দুই ভাই। গত বছর ৭ জুন রাতে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলা মামলার আসামি হিসেবে পুলিশ বরকত ও রুবেলসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে।