প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের প্রথম জানাজা বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উল্লাপাড়া সরকারি আকবর আলী কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে তার মরদেহ ঢাকা থেকে উল্লাপাড়ায় আনা হয়। মরদেহ আকবর আলী কলেজ মাঠে নেওয়ার পর হাজারো মানুষ তার কফিনে ফুল দিয়ে তাকে শেষ বিদায় জানান। সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

জানাজার আগে বক্তব্য দেন উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্য ও এইচ টি ইমামের ছেলে তানভীর ইমাম, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মণ্ডল, সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহমেদ, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ তালুকদার, উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় এইচ টি ইমামের মরদেহ তার নিজ গ্রাম সোনতলায় নেওয়া হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে সেখানে তার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বুধবার রাত ১টা ১৫ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।

এইচ টি ইমামের জানাজায় মানুষের ঢল নামে - সমকাল

১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকারের চাকরিতে থাকা অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এইচ টি ইমাম। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন তিনি। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত সাভারের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি যোগাযোগ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব হন।

অবসর নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন এইচ টি ইমাম। দলের নির্বাচন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। ছিলেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্ব পান এইচ টি ইমাম। প্রথমে জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এবং ২০১৪ সালে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়।