ঢাকার ধামরাইয়ে সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনকে (৩৭) প্রকাশ্যে গলা কেটে হত্যার পাঁচ মাস পর এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।  এ ঘটনায় মামলার বাদী ও সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনের বোন রিনা আক্তার বুধবার মামলাটি অন্যত্র তদন্তের জন্য নারাজি দিয়েছেন।

নিহত সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনের মা নুরজাহান বেগম বৃহস্পতিবার কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ মামলা থেকে মালেক ও মামুন নামে দুই আসামিকে বাদ দিয়েছে। অথচ ওই দুজন কয়েক বছর আগেও আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশে ব্যাপক মারধর ও হাঁতুড়ি পেটা করে অজ্ঞান করে ফেলে রেখেছিল। তার প্রশ্ন তাহলে কি তার ছেলের হত্যাকারীরা পার পেয়ে যাবে?

মামলার বাদী রিনা আক্তারের অভিযোগি, পুলিশ মোটা অংকের টাকা খেয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি মামুন ও মালেককে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দিয়েছে। মামলাটি পিবিআই পুলিশকে দিয়ে তদন্ত করার জন্য চার্জশীটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দিয়ছেন বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, সাংবাদিক জুলহাস হত্যার ঘটনার অভিযোগপত্রে পুলিশ কিভাবে দুই আসামিকে বাদ দিলেন তা তারা বুঝতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধামরাই থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, তদন্তে ওই দুই আসামির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তাই তাদেরকে বাদ দিয়ে অপর তিন আসামি শাহিন, মোয়াজ্জেম হোসেন ও আনিসুজ্জামানের নামে আদালতে অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে।

নিহত সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিন ধামরাই প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও বেসরকারি চ্যানেল বিজয় টেলিভিশনের ধামরাই প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি ধামরাই উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতকোড়া গ্রামের মৃত রহিজ উদ্দিনের ছেলে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনকে দুপুর আড়াইটার দিকে ধামরাইয়ের বারবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে প্রকাশ্যে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এসময় ধাওয়া করে স্থানীয় লোকজন শাহিন ও তার বন্ধু মোয়াজ্জেম হোসেনকে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনের বোন রিনা আক্তার বাদী হয়ে শাহীন, মোয়াজ্জেম হোসেন, আনিসুজ্জামান, মামুন ও মালেকসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও তিন-চারজনকে আসামি করে ধামরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিদের মধ্যে শাহীন, মোয়াজ্জেম হোসেন ও আনিসুজ্জামান জেলহাজতে রয়েছে।




বিষয় : সাংবাদিক জুলহাস হত্যা অভিযোগপত্র দাখিল

মন্তব্য করুন