আর্থিক প্রতারণার মামলায় জামিন পাওয়ার পরও আসামিপক্ষ জামিননামা দাখিল না করায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর 'নির্যাতনের' অভিযোগ করা সেই রূপম কান্তি নাথের জামিন বাতিল করেছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত এ আদেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ফেরত দেওয়া সিআর মামলাটি বৃহস্পতিবার ফের চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে দায়ের করেন বাদী ঝর্ণা রানী দেবনাথ। 

নালিশি মামলায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার, জেলার, ডাক্তার ও ভিকটিম রুপমের ব্যবসায়ীক পার্টনারসহ চার জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

বাদির আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাজিব দাশ বলেন, জামিন পাওয়ার পর ভিকটিমের স্ত্রী জিম্মাদার হলেও তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র যথাসময়ে আদালতে জমা দিতে না পারায় আদালত জামিন বাতিল করেছেন। আদালতকে আমরা সেই তথ্য জানিয়েছি। 

অ্যাডভোকেট রাজিব দাশ আরো জানান, কারাগারে আসামিকে 'নির্যাতন' করায় হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের ১৩ (১) (২) এর (ক) (খ) (গ) ধারায় নালিশি মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। হাসপাতালে উপস্থিত আইনজীবীর বক্তব্যও শুনতে চান। শুনানি শেষে আদেশ দেননি, আদেশ অপেক্ষমাণ রয়েছে।

যদিও বন্দি নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে জেলার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আসামি তাদের পরামর্শদাতাদের পরামর্শে সহানুভূতি আদায় করে সহজে জামিন পেতে নির্যাতনের সাজানো অভিযোগ করছেন। জামিন পাওয়ার পরও জামিননামা জমা না দিয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে একটি গেইম খেলছেন। এ বন্দি মাদকাসক্ত হওয়ায় তার আচার আচরণ ভাল নয়। নিজেই নিজের শরীরে কামড় দেওয়ার ঘটনাও ঘটিয়েছেন এ বন্দি।

মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়, এজাহারভুক্ত আসামি রতন ভট্টাচার্যের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি মামলায় (জিআর মামলা নম্বর ৩৩২/১৮) গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর কারাগারে যান রুপম কান্তি দেবনাথ। চলতি বছরের ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে রুপমকে অন্যায়ভাবে বিচারাধীন মামলায় জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য এবং স্থায়ীভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন করার জন্য শারীরিক নির্যাতন, বিষাক্ত নেশাজাতীয় দ্রব্য পুশ ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে নির্যাতন করেছেন।

আরজিতে আরও অভিযোগ করা হয়, নির্যাতনের খবর পেয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বন্দি রুপম কান্তি নাথের উন্নত চিকিৎসার জন্য আদালতে আবেদন করেন মামলার বাদি। আদালত আবেদনটি মঞ্জুরও করেন। আসামিরা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে রুপম কান্তি নাথকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করায়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। ৩ মার্চ মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত ১০ হাজার টাকা বন্ডে তাকে জামিন দেন। কিন্তু যথাসময়ে জামিননামা দাখিল না করায় বৃহস্পতিবার জামিন বাতিল করা হয়।