ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের দিঘলবানা খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকার মধুমতী নদীর পাড়ে থাকা মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার কালিশংকরপুর গ্রামের কবির মোল্লার বাইচের নৌকা প্রতিপক্ষের লোকজন পূর্ব শত্রুতার জেরে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

বুধবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় কবির মোল্লার স্ত্রী চম্পা বেগম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে পলাশবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলামসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, কালিশংকরপুর গ্রামের কবির মোল্লা ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের মধ্যে এলকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গত মঙ্গলবার বিকেলে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয় এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুই পক্ষের ৩০ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করে। ওই মামলায় কবির মোল্লাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে হাজতে পাঠিয়েছে।

এই ঘটনার জেরে বুধবার সন্ধ্যায় রবিউল চেয়ারম্যানের সমর্থকরা মধুমতি নদীর পাড়ে থাকা কবির মোল্লার ৮৫ হাত লম্বা বাইচের নৌকা কেরোসিন তেল ঢেলে পুড়িয়ে দেয় বলে কবির মোল্লার স্ত্রী চম্পা বেগম অভিযোগ করেছেন। নৌকাটি তৈরিতে তিন লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতক্ষদর্শী দীঘলবানা খেওয়া ঘাটের মাঝি শুকুর মোল্লা জানান, আমি ওপার থেকে যাত্রী নিয়ে এপারে আসার পরে নৌকায় আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। আমি তাদের কাউকে চিনতে পারিনি। 

অভিযুক্ত মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, আমাদের ফাঁসাতে নিজেদের নৌকায় নিজেরা আগুন দিয়ে থানায় অভিযোগ করেছে। 

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল এবং বৃহস্পতিবারে বিকেলে কবির মোল্লার স্ত্রী চম্পা বেগম ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিষয় : নৌকা বাইচ বাইচের নৌকা

মন্তব্য করুন