কুমিল্লা ইপিজেডের তরল বর্জ্য শতভাগ পরিশোধন হচ্ছে জানিয়ে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) নাজমা বিন্‌তে আলমগীর বলেছেন, এই তরল বর্জ্য পরিবেশের কোনো ক্ষতি করছে না। 

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় কুমিল্লায় কার্যালয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে কুমিল্লা রপ্তানি প্রকিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) ভূমিকা নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমানসহ অন্য কর্মকর্তারা।

লিখিত বক্তব্যে নাজমা বিন্‌তে আলমগীর বলেন, কুমিল্লার পুরোনো বিমানবন্দর এলাকায় ২৬৭ দশমিক ৪৬ একর জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা ইপিজেড দেশের চতুর্থ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় এই ইপিজেড বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি, কর্মসংস্থান এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। কুমিল্লা ইপিজেডে এ পর্যন্ত বিনিয়োগ এসেছে ৪৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। রপ্তানি হয়েছে তিন হাজার ৬৯৯ ডলার সমমূল্যের পণ্যসামগ্রী। এখানে দেশি-বিদেশি ৪৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করছেন। এসব শ্রমিকের বেতন-ভাতা বাইরের প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি। ২০০০ সালে এটি চালুর পর থেকে আজ পর্যন্ত দুর্ঘটনায় কোনো শ্রমিকের মৃত্যু হয়নি।

তিনি আরও বলেন, দেশের আটটি ইপিজেডের মধ্যে বিগত দশ বছরে কুমিল্লাসহ চারটি ইপিজেডে কেন্দ্রীয় তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার চালু করা হয়েছে। এই বর্জ্য পরিশোধনাগারটি রাসায়নিক ও জৈবিক উভয় পদ্ধতিতে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য পরিশোধন করতে পারে। ২৪ ঘণ্টাই এটি চালু থাকে। কুমিল্লা ইপিজেডে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে আট হাজার ঘনমিটার বর্জ্য পরিশোধন হচ্ছে। বেপজার প্রতিনিধিরা প্রতিদিন পরিশোধনাগারের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করছে। প্রতি মাসে দু'বার পরিশোধন হওয়া পানি বেপজার চট্টগ্রাম ল্যাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর তিন মাস পরপর এই পানি পরীক্ষা করছে। এ ছাড়া প্রতি ছয় মাসে বুয়েটের ল্যাবেও পরীক্ষা হচ্ছে। ফলে এই পানির মাধ্যমে পরিবেশ, নদীনালা, কৃষিজমি এবং জীববৈচিত্রের কোনো ক্ষতি হওয়ার সুযোগ নেই।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাজমা বিন্‌তে আলমগীর বলেন, অনেকে না বুঝেই কুমিল্লা ইপিজেডের তরল বর্জ্য ও পরিশোধনাগার নিয়ে মনগড়া কথা বলছেন, মিথ্যা অভিযোগ করছেন। ইপিজেডকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় ছোট ছোট কয়েকশ কারখানা গড়ে উঠেছে। তাদের তরল বর্জ্যও সরাসরি ড্রেনে যাচ্ছে। কারণ তাদের কোনো পরিশোধনাগার নেই। যারা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন, তারা মাটি খুঁড়লেই দেখতে পাবেন, কাদের পাইপ মাটির নিচ দিয়ে ড্রেনে গেছে।