প্রতারণা মামলায় কারাবন্দি রুপম কান্তি দেবনাথকে 'ইলেকট্রিক শক ও বিষাক্ত ইনজেকশন' প্রয়োগ করে নির্যাতনের অভিযোগে করা নালিশি মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার, জেলার, চিকিৎসক ও কারাবন্দি রুপমের ব্যবসায়িক পার্টনারকে মামলার বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে ১ মার্চ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি মামলা করলে পরদিন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হোসেন মোহাম্মদ রেজার আদালত উপযুক্ত আদালতে মামলা করতে মামলাটি ফেরত পাঠানোর আদেশ দেন।

বাদীর আইনজীবী ভুলন লাল ভৌমিক বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দেওয়া নির্দেশনা মেনেই মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার আবেদন করেছি। আদালত শুনানি শেষে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে আদালত বাদী ঝর্ণা রানী দেবনাথের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।

মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়, এজাহারভুক্ত আসামি রতন ভট্টাচার্যের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত একটি মামলায় (জিআর মামলা নম্বর ৩৩২/১৮) গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর কারাগারে যান রুপম কান্তি দেবনাথ। চলতি বছরের ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে রুপমকে অন্যায়ভাবে বিচারাধীন মামলায় জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য এবং স্থায়ীভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন করার জন্য শারীরিক নির্যাতন, বিষাক্ত নেশাজাতীয় দ্রব্য পুশ ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে নির্যাতন করেছেন।

নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে জেলার রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আসামি সহানুভূতি আদায় করে সহজে জামিন পেতে নির্যাতনের সাজানো অভিযোগ করছেন। জামিন পাওয়ার পরও জামিননামা জমা না দিয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে একটি গেম খেলছেন। এ বন্দি মাদকাসক্ত হওয়ায় তার আচরণ ভালো নয়। নিজেই নিজের শরীরে কামড় দেওয়ার ঘটনাও ঘটিয়েছেন।'

জামিন বাতিল : এদিকে জামিন পাওয়ার পরও আসামিপক্ষ জামিননামা দাখিল না করায় রূপম কান্তি দেবনাথের জামিন বাতিল করেছেন একই আদালত। বাদীর আরেক আইনজীবী রাজিব দাশ বলেন, জামিন পাওয়ার পর ভিকটিমের স্ত্রী জিম্মাদার হলেও তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র যথাসময়ে আদালতে জমা দিতে পারেননি। তাই আদালত জামিন বাতিল করেছেন।