জালিয়াতি করে আগাম জামিননামা তৈরির ঘটনায় বগুড়া যুবলীগ নেতা ও সদ্য নির্বাচিত পৌর কাউন্সিলর আমিনুল ইসলামসহ ৩০ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার আমিনুল ইসলামসহ ১৬ জন আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণের পর জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে বুধবার একই ঘটনায় আরও ১৪ জনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান আদালত।

বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম আসমা মাহমুদ এ আদেশ দেন বলে জানান আসামি পক্ষের আইনজীবী আব্দুল মান্নাফ।

বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- বগুড়া পৌর কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম, আবদুল আলিম, আনোয়ার মণ্ডল, মোহাম্মদ বাদল, সেলিম, কিবরিয়া, রাশেদুল, সাদ্দাম, মাহমুদ, রতন, সেলিম রেজা, রুহুল আমিন, জাহিদুর রহমান, নুর আলম মণ্ডল, বিপুল ও সুমন প্রামাণিক।

বুধবার কারাগারে পাঠানো ১৪ আসামি হলেন- বগুড়া সদরের গোদারপাড়া এলাকার লিটন প্রামাণিক, মোহাম্মদ মানিক, মোহাম্মদ জাকির, মোহাম্মদ তানভির, আবদুল গনি, রাসেল মণ্ডল, আসাদুজ্জামান মনা, খোকন, শিপন, আল আমিন, দীপ্ত, মিরাজ, হেলাল ও রাব্বী।

বগুড়ায় মোটর মালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় পরদিন পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি তিনটি মামলা হয়। এরমধ্যে একটিতে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের ছোট ভাই মশিউল আলম দীপন বাদী হয়ে উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুল ইসলামকে প্রধান করে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় মামলা করেন। এরমধ্যে ৩০ জনের হাইকোর্টের জামিননামার ভুয়া নথি তৈরি করা হয়।

ভুয়া জামিননামার বিষয়টি গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ধরা পড়ার পরই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আসামিদের সাতদিনের মধ্যে গ্রেপ্তারের আদেশ দেন।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এ নির্দেশ দেওয়া ছাড়াও বিষয়টি তদন্ত করতে বগুড়ার মুখ্য বিচারিক হাকিমকেও নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। এরই একপর্যায়ে আসামিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।