গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে আদিবাসীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা। এসময় সড়কের দুপাশে সকল যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

জানা গেছে, রংপুর চিনিকলের আওতাধীন উপজেলার সাহেবগঞ্জ ইক্ষুখামারের বিরোধপূর্ণ জমি বাপ-দাদার দাবি করে দখলে নিয়ে রবি ফসলসহ বিভিন্ন ফসলাদী চাষাবাদ করে আসছিল আদিবাসীরা। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি ইরিবোরো মৌসুমে ধানের চারা রোপণ করা হয়। কয়েকদিন আগে চিনিকল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেচের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এরপর বিদ্যুৎ সংযোগের দাবিতে আদিবাসীরা জেলা প্রশাসকের বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদ্যুৎ অফিসকে নির্দেশ দেন। কিন্তু বিদ্যুৎ অফিস আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সড়ক অবরোধ করেন আদিবাসীরা।

পরে গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আফজাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন আদিবাসীরা। এসময় প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন তারা। তা না হলে ফের অবরোধ কর্মসূচির দেওয়া হবে বলে জানান তারা।

পুলিশ পরিদর্শক আফজাল হোসেন বলেন, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার দেওয়া কথা মত শনিবার বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে।

সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি পুনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ডা. ফিলিমন বাস্কে অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া ছিল। অফিসের কথা মত পূর্বের বিদ্যুৎ বকেয়া বিল পরিশোধ করি। আমরা প্রায় ৪০০ একর জমিতে ইরিবোরো ধান রোপন করেছি। হঠাৎ করে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন গিয়ে সেচ পাম্পের সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এতে রোপন করা ৪০০ একর জমির ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। 

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ গোবিন্দগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জানান, যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া ছিল তা বিচ্ছিন্ন করার জন্য চিনিকল কর্তৃপক্ষ আমাদের চিঠি দেয়। সেই আলোকে সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

চিনিকলের মহা ব্যবস্থাপক (এমডি) করীব বলেন, আমি কিছু বলতে পারব না। অফিসে জিএম, এজিএম আছে। আপনারা তাদের সঙ্গে কথা বলুন।