চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হত্যা মামলার আসামি নিখোঁজের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে কমিটি। সোমবার কারাগারের অভ্যন্তরে সেফটি ট্যাংক ও নালা-নর্দমায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের তল্লাশির মাধ্যমে এই তদন্ত শুরু হয়। 

এর আগে কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ গঠিত প্রধান খুলনা বিভাগের কারা উপ মহাপরিদর্শক ছগির মিয়ার নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ মহাপরিদর্শক একেএম ফজলুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর তারা চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গেও কথা বলেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান কারা উপ মহাপরিদর্শক ছগির মিয়া বলেন, ‘বিশাল কারাগার। অনেক সেফটি ট্যাংক ও বড় বড় নালা নর্দমা আছে। এসবের ভেতর হাজতি মরেও পড়ে থাকতে পারে। এ ধারণা থেকে ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের আনা হয়েছে। তারা এসে সব সেফটি ট্যাংক, নালা, ভবনের ছাদ, কার্নিশসহ সব জায়গায় তন্নতন্ন করে খুঁজেছে। পাওয়া যায়নি। তবে তল্লাশি অব্যাহত আছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করেছি। বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছি।’

নিখোঁজ হাজতি মো. ফরহাদ হোসেন রুবেল নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মীরেরকান্দি গ্রামের শুক্কুর আলী ভাণ্ডারির ছেলে। নগরীর সদরঘাট থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার আসামি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি আগ্রাবাদের মিস্ত্রিপাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে ছিলেন তিনি। ফরহাদ হোসেন রুবেল কারাগারের পঞ্চম তলার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে থাকতেন। গত শনিবার ভোর থেকে তাকে খুঁজে না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে নগরের কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান। এরপর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রাতে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার ও ডেপুটি জেলারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দুই কারারক্ষীকে বরখাস্ত ও এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।