ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে লক্ষ্য করে 'গুলি' ছোড়ার প্রতিবাদে সোমবার ব্যবসায়ীদের ডাকা আধাবেলা হরতালে অচল হয়ে পড়ে পৌর এলাকা। স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের উদ্যোগে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা শান্তিপূর্ণ হরতালে যানবাহনসহ সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ ছিল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

রোববার স্থানীয় সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমেদ ও পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম একে অপরের ওপর হামলার অভিযোগ করেন। ওই দিন দুপুরে গৌরীপুর বাসস্টেশন এলাকায় মেয়র ও এমপিপুত্র তানজির আহমেদ রাজিবের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। মেয়রের দাবি, এমপিপুত্রের নির্দেশে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে। সন্ধ্যার পর ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, তার গাড়িবহরে হামলা হওয়ায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।

মেয়রের ওপর হামলার প্রতিবাদে গৌরীপুর পৌর বাজারের সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সোমবার হরতাল কর্মসূচি পালন করে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গৌরীপুর কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, মেয়রের ওপর হামলার প্রতিবাদে তারা এ হরতাল কর্মসূচি পালন করেন।

সোমবার দুপুরে পৌর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, পৌর নির্বাচনে তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এমপি ও তার ছেলে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা আড়াল করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন এমপি।

গৌরীপুর থানার ওসি খান আবদুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, ব্যবসায়ী সংগঠন দোকান না খোলার সিন্ধান্ত নেয়। কেউ ব্যক্তিগতভাবে দোকান বন্ধ রাখলে জোর করে খোলানোর সুযোগ নেই। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়।