গত ২ মার্চ রাজশাহীর বিভাগীয় সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, সাবেক মেয়র ও নগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপ-মন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে আসামি করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করবে রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার জন্য অনুমতি চেয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেছেন নগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মুসাব্বিরুল ইসলাম।

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২ মার্চ রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ হয়। এতে অভিযুক্তরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ সৃষ্টি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রাণনাশের হুমকি সহ নির্বাচিত সরকার উৎখাতের উদ্দেশে রাষ্ট্র বিরোধী বক্তব্য দেয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির আইনের ১২৩(ক)/১২৪(ক)/৩৪ ধারা মোতাবেক মামলা দায়ের করা হবে। এজন্য ফৌজদারী কার্যবিধির ১৯৬(ক) ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অনুমতির আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি গ্রহণ করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল জলিল।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে মিজানুর রহমান মিনু তার বক্তব্যে বলেছেন, ‘হাসিনা রেডি হও- আজ সন্ধ্যার সময়- কালকে সকাল তোমার নাও হতে পারে। মনে নাই পঁচাত্তর সাল? পঁচাত্তর সাল মনে নাই?’ তার এই বক্তব্য বিভিন্ন মিডিয়া, সংবাদপত্র ও ফেসবুক লাইভে প্রচার হয়। এ ঘোষণার পর বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাঝে উগ্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। এসময় মঞ্চে থাকা অন্যরাও একই ধরণের বক্তব্য দিয়ে ঘৃণা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাসহ নির্বাচিত সরকার উৎখাতের হুমকি দিয়ে দিয়ে তারা রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলার বাদী আইনজীবি মুসাব্বিরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তরা প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তারা বারবার পঁচাত্তর সালে বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যার কথা স্মরণ করিয়ে হুমকি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। সরকার উৎখাতের হুমকি দিয়েছেন। যা রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধের সামিল। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করতে সরকারের অনুমতি প্রয়োজন হয়। এজন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সরকারের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলেই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করা হবে।

সংবাদ সম্মেলন: এদিকে দুপুরে কুমারপাড়ায় নগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বিএনপির মিনু, বুলবুল, দুলু ও মিলন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্ব-পরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে অত্যান্ত বিদ্বেষভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় মিজানুর রহমান মিনুকে ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিতে আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ মিছিলসহ ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয় লিটন। কিন্তু মিনু ক্ষমা না চেয়ে তার দলের দপ্তর সম্পাদকের মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ কারণে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা করা হবে।

খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে মামলা করার জন্য আলোচনা করেছি। শিগগিই মামলা করার অনুমতি পেয়ে যাবো। তিনদিনের মধ্যেই মামলা দায়ের হবে বলে আশা করছি।

সমাবেশ: এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর রানীবাজার এলাকায় সমাবেশ করছে আওয়ামী লীগ। নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেব আছেন সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল।