নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক কাজী আবদুর রহমানের সহায়তায় কেন্দুয়ার বৃদ্ধ সেই রিকশাচালক ইসলাম উদ্দিনের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। মুজিব জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার দুপুরে ইসলাম উদ্দিনের হাতে তুলে দেওয়া হয় অর্ধলক্ষাধিক টাকা মূল্যের ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা ও চাবি। কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মইন উদ্দিন খন্দকার উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ চাবি ও রিকশা হস্তান্তর করেন। এসময় কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গীতিকার মো. নূরুল ইসলাম, কেন্দুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জোনাঈদ আফ্রাদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. খবিরুল আহসান ও ওসি কাজী শাহ নেওয়াজসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইসলাম উদ্দিনকে নিয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি 'ভাগ্যের ফেরে রিকশা চালান ইসলাম উদ্দিন' শিরোনামে দৈনিক সমকালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক কাজি আবদুর রহমানের দৃষ্টি কাড়ে। পরে তিনি কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মইন উদ্দিন খন্দকারকে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে কিভাবে ইসলাম উদ্দিনের মুখে হাসি ফোটানো যায়, সেই পরিকল্পনা নিতে পরামর্শ দেন । এরই প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মইন উদ্দিন খন্দকার দুই দিন ইসলাম উদ্দিনের বাড়িতে ছুটে যান।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মইন উদ্দিন খন্দকার জানান, রিকশাচালক ইসলাম উদ্দিনের বাড়ি কেন্দুয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কমলপুর মহল্লায়। ছোট্ট একটি দু’চালা টিনের ঘরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কোনমতে বসবাস করেন তিনি। তার বাবার অনেক সহায়-সম্পদ থাকলেও কালের আবর্তে সব শেষ হয়ে গেছে। প্রথম জীবনে বিয়ের পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইসক্রিম বিক্রি করে সংসার চালাতেন ইসলাম। এরপর পায়ে টানা রিকশা চালাতে শুরু করেন তিনি।
ইসলাম উদ্দিনের বাড়িতে ইউএনও  -সমকাল

ইউএনও বলেন, ৪ মেয়ে ও ৩ ছেলের জনক ইসলাম উদ্দিন। বর্তমানে বিবাহযোগ্য এক মেয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। ছোট মেয়ে সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণিতে পড়ে। এই মেয়ের ওপর অনেক আশা ভরসা ইসলাম উদ্দিনের।  মেয়েটিও খুব মেধাবী। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহায়তায় আর সরকারের উপবৃত্তি নিয়ে লেখাপড়া চালিযে যাচ্ছে সে। কিন্তু অভাব অনটনের সংসারে এই বৃদ্ধ বয়সে পায়ে টানা রিকশা না চালালেই উপোস থাকতে হয় তাদের।

তিনি আরও বলেন, ইসলাম উদ্দিনের কষ্ট দূর করতে জেলা প্রশাসক কাজি আবদুর রহমানের সহায়তায় ইসলাম উদ্দিনকে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা দেওয়া হয়েছে। রিকশা ভাড়া দিয়ে তিনি যে অর্থ পাবেন তা দিয়ে সংসারের অভাব অনটন অনেকটা দূর করতে পারবেন বলে আশা করি। এছাড়া তার বিবাহযোগ্য মেয়ের বিয়ে ঠিক হলে জেলা প্রশাসক সাধ্যমত আর্থিক সহায়তা দেবেন।

ইউএনও জানান, এসবের পাশাপাশি 'যার জমি আছে ঘর নেই' প্রকল্প ফের চালু হলে ইসলাম উদ্দিনেরর জন্য কমলপুর মহল্লায় একটি ঘর তৈরি করে দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, ব্যাটারিচালিত রিকশা পেয়ে ইসলাম উদ্দিন খুব খুশি। তিনি বলেন, সমকাল পত্রিকায় আমারে লইয়া না লেখলে কেউই আমার খোঁজ খবর নিত না। ডিসি স্যারের পরামর্শে ইউএনও স্যার দুইদিন আমার বাড়িত গেছেন। আমার সংসারের খোঁজ খবর নিছেন। আইজ আমারে একটি অটোরিকশা দিছেন। জেলা প্রশাসন থেকে রিকশা দেওয়ার পাশাপাশি মেয়ের বিয়েতে টাকা সহায়তা ও ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান ইসলাম উদ্দিন।