কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিল তার প্রতিপক্ষ এক যুবলীগ নেতাকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এ ঘটনায় গুরুতর আহত ওই যুবলীগ নেতার নাম রোকন উদ্দিন রুকন। তিনি কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য পদে রয়েছেন। 

শুক্রবার বিকেলে নগরীর অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ের সামনে (চকবাজার এলাকায়) এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই যুবলীগ নেতাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনার অভিযুক্ত কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিলকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, কাউন্সিলর জলিল আগে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন বর্তমান সিটি মেয়র ও বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কুর অনুসারী। চলতি মাসের শুরুতে চকবাজার বাসস্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের একটি পক্ষের সঙ্গে বিরোধে জড়ান তিনি। এতে কোনঠাসা হয়ে গত ৫ মার্চ কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আনজুম সুলতানা সীমাকে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সিটি নির্বাচনে জলিল বিএনপির সমর্থনে আর যুবলীগ রোকন আওয়ামী লীগের সমর্থনে একই ওয়ার্ড থেকে প্রতিদন্দ্বিতা করেন। সে নির্বাচনে পরাজিত হন যুবলীগ নেতা রোকন। এরপর থেকে তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। চকবাজার বাসস্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন কাজে প্রায়ই বিরোধ হতো তাদের মধ্যে। এসব ঘটনায় একাধিকার হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবার বিকেলে সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘরে হামলার প্রতিবাদে যুবলীগ নেতা রোকনের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয় চকবাজার এলাকায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে গাড়ি নিয়ে এসে কাউন্সিলর জলিল যুবলীগ নেতা রোকনকে চাপা দেন। এক পর্যায়ে কোমড় থেকে পিস্তল বের করে ফাঁকা গুলিও চালান তিনি। তবে এ ঘটনায় কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি। পরে মিছিলে থাকা নেতাকর্মীরা দ্রুত আহত রোকনকে হাসপাতালে পাঠান। গাড়িচাপায় তার পা জখম হয়েছে।

কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শহিদ বলেন, কাউন্সিলর জলিল একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। তিনি এলাকায় একের পর এক অপকর্ম করছেন। তার এসব অপকর্মের বিরুদ্ধ প্রতিবাদ করায় যুবলীগ নেতা রোকনের উপর এই হামলা হয়। তাকে হত্যার চেষ্টা করেছেন কাউন্সিলর জলিল।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল হক জানান, কাউন্সিলর জলিলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার বিকেলে জলিল তার গাড়ি দিয়ে রোকন নামের একজনকে চাপা দিয়েছেন। এ ঘটনার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় চকবাজার কাশারীপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে কাউন্সিলর জলিলের বিরুদ্ধে পূর্বে থানায় কোন মামলা নেই বলে জানান তিনি।