নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন আদালত। একইসঙ্গে অপর আসামি মোয়াজ্জেম হোসেন প্রকাশ সোহাগ মেম্বারকে মামলা থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জয়নাল আবেদীন শুনানি শেষে এ আদেশ প্রদান করেন। এ মামলায় আসামিরা হচ্ছেন- নূর হোসেন বাদল, আবদুর রহিম, মো. আলী প্রকাশ আবুল কালাম, ইস্রাফিল হোসেন মিয়া, মাঈন উদ্দিন সাজু, সামছুদ্দিন সুমন, আবদুর রব চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান আরিফ, জামাল উদ্দিন, নূর হোসেন রাসেল, মিজানুর রহমান তারেক, আনোয়ার হোসেন সোহাগ ও দেলোয়ার হোসেন দেলু।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পি.পি) মামুনুর রশীদ লাভলু আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুনানীকালে চার্জশীটভুক্ত আসামিদের মধ্যে ৯ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর চারজন পলাতক।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আদালতে নারীকে নির্যাতন ও র্ধষণ চেষ্টার কার্যক্রম শুরু হয়। এসময় আসামি ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে সোহাগ মেম্বারকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য আবেদন করা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে দীর্ঘ শুনানী শেষে ঘটনার সঙ্গে সোহাগের সংশ্লিষ্টতা না থাকায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন আদালত। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি মামুনুর রশিদ আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত ওই গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পড়ে শোনান। এসময় আসামিরা একসঙ্গে নিজেদের নির্দোষ দাবি করলে আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ প্রদান করেন। এই মমলার স্বাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ১৮ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার ২৪ মার্চ নোয়াখালী শিশু নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুাল-১ এ নির্যাতনের স্বীকার ওই নারীকে ২০১৯ সালের ৫ অক্টোম্বর রাতে ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু বাদী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বাক্ষ্য গ্রহণ পিছিয়ে আগামী ১৮ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি মামুনুর রশিদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি সিনিয়র এ্যাডভোকেট মোল্লা হানুরুন রসুল মামুন। অন্যদিকে আসামি পক্ষে ছিলেন শাহাতাদ হোসেন ও তার সহকারীরা।

এর আগে, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর এ মামলায় ১৪ আসামির বিরুদ্ধে পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। একই বছরের ৫ অক্টোবর নির্যাতিতা নারী বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।

গত বছরের ২সেপ্টেম্বর রাতে ওই নারীর আগের স্বামী তার সাথে দেখা করতে তার বাবার বাড়ি একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে এসে তাদের ঘরে প্রবেশ করেন। বিষয়টি দেখে ফেলে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার। রাত ১০টার দিকে দেলোয়ার তার লোকজন নিয়ে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে পর পুরুষের সাথে অনৈতিক কাজের অপবাদ দিয়ে তাকে ধর্ষণের প্রস্তাব দেয়। নারী তাদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে পিটিয়ে নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে তারা। গত বছরের ৪ অক্টোবর দুপুরে ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়।