কুমিল্লার হোমনায় নিজেরা অপহরণ নাটক সাজিয়ে মালিকের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন তিন ওয়ার্কশপ কর্মচারী। উপজেলার ভাষানিয়া ইউনিয়নের কাশিপুর বাজারে এই ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ প্রযু্ক্তির মাধ্যমে প্রতারকদের অবস্থান চিহ্নিত করে বৃহস্পতিবার ভোরে একই উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি এলাকা থেকে তাদের আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। 

তারা হলেন- উপজেলার মাইজচর গ্রামের মমতাজ মিয়া মেম্বারের ছেলে বাবু প্রকাশ সুমন (২০), বালুয়াকান্দি গ্রামের মিজান মিয়ার ছেলে মো. আকাশ মিয়া প্রকাশ হারিছ (৩০) ও দেবিদ্বার উপজেলার বাড়েরা গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে আবু বক্কর (১৯)। 

এর আগে কর্মচারী অপহরণের ঘটনায় গত বুধবার রাতে হোমনা থানায় জিডি করেছিলেন ওয়ার্কশপের মালিক জসীম উদ্দিন। পরে অপহরণ নাটক সাজানোর দায়ে তিনজনের নামে বৃহস্পতিবার মামলা করেন তিনি।  

পুলিশ জানিয়েছে, উপজেলার কাশিপুর বাজারে জসীম উদ্দিনের ওয়ার্কশপে পাঁচ দিন আগে বাবু প্রকাশ সুমনকে আরও দুইজন শ্রমিকের সঙ্গে কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রতিদিনের মতো বুধবার রাত আটটার দিকে সবাই ওয়ার্কশপ বন্ধ করে যার যার বাড়ি চলে যায়। ঘণ্টা দুয়েক পরে সোয়া দশটার দিকে একটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে কর্মচারী বাবুকে আটক করে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি বিকাশ নম্বর দেয় ওয়ার্কশপের মালিক জসীম উদ্দিনকে। এ সময় বাবুকে জসীমের সঙ্গে মোবাইলে মারধর এবং মেরে ফেলার কথাও জানানো হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কোনো উপায়ান্তর না দেখে ওই রাতেই মালিক জসীম উদ্দিন হোমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন। পরে পুলিশ মোবাইল কথোপকথনের সূত্র ধরে প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে আসামি আকাশ মিয়া প্রকাশ হারিছের বালুয়াকান্দি গ্রামের বাড়ি থেকে তিনজনকে আটক করে।

ওয়ার্কশপের মালিক জসীম উদ্দিন বলেন, একটি অজ্ঞাত মোবাইল নাম্বার থেকে আমাকে ফোন করে বলা হয়, বাবুকে (প্রকাশ সুমন) অপহরণ করা হয়েছে। তাকে ছাড়ানোর জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করে একটি বিকাশ নাম্বারও দেয় তারা। এ সময় বাবু নিজেও ফোনে কান্নাকাটি করে টকা পাঠানোর কথা বলে; না দিলে তাকে মেরে ফেলবে বলে জানায় সে। উপায়ন্তর না দেখে বিষয়টি জানিয়ে আমি বুধবার রাতেই হোমনা থানায় একটি জিডি করি।

এ ব্যাপারে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কায়েস আকন্দ বলেন, আসামিরা অপহরণ নাটক সাজিয়ে প্রতরণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আমরা প্রযু্ক্তির ব্যবহার করে অপহরণ নাটকের সঙ্গে জড়িত  তিন বন্ধুকেই বৃহস্পতিবার ভোরে আটক করতে পেরেছি। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।