কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় মো. নাদিম হোসেন (৩৫) নামে ২৪ মামলার আসামি এক যুবলীগ কর্মীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। শুক্রবার সকালে উপজেলার পশ্চিম জোড়কানন ইউনিয়নের সোয়াগাজি এলাকার বাটপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত নাদিম ওই গ্রামের ইদু মিয়ার ছেলে। তিনিও সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন।

ঘটনার সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহতের স্ত্রী, মা ও ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যার ঘটনায় আবদুল মান্নান নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে অন্তত ১০ জনের একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র হাতে নাদিমের বাসায় প্রবেশ করে। তারা প্রথমে পুরো বাসায় ভাঙচুর চালায়। এক পর্যায়ে নাদিমের গলা, বুক, হাত ও পায়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় নাদিমকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার স্ত্রী আমেনা বেগম, ভাই রাসেল এবং মাকেও পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। এরপর পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

নিহতের বাবা ইদু মিয়া বলেন, এলাকার মাদক কারবারিদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল নাদিমের। কয়েকদিন আগে এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায় র‌্যাবের একটি দল। বিরোধী পক্ষের ধারণা, নাদিমের তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব ওই অভিযান চালিয়েছিল। এ নিয়ে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নাদিমের সরাসরি বিরোধ শুরু হয়। গত বুধবার সন্ত্রাসীরা নাদিমকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনার পর আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ করি। 

ইদু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার সকালে নাদিম হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরলে আওয়ামী লীগ নেতা ইলিয়াস মিয়ার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী আবদুল মান্নান, বিল্লাল, এরশাদ, ফারুক, খোকা, বেলাল, রুবেল, নুরুল হক, আলামিনসহ কয়েকজন হামলা চালায়।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী জানান, নিহত নাদিম এবং হত্যাকারীরা আগে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী ছিল। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। নাদিমের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় মোট ২৪টি মামলা রয়েছে। ওসি আরও জানান, এ হত্যার ঘটনায় আবদুল মান্নান নামে এক সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকে অভিযান চলছে।