ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে সাজানো ধর্ষণ মামলায় নিজেকেই কারাগারে যেতে হলো ছগির (৩৮) নামের এক আইনজীবী সহকারীকে।

শুক্রবার সকালে ছগিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বরগুনা সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের গুদিঘাটা গ্রামের এক নারী গত ২৫ মার্চ বরগুনা সদর হাসপাতালের জাহিদ নামের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই কেয়া এবং ওই নারীসহ পুলিশের একটি টিম অভিযুক্তের কর্মস্থলে গিয়ে তাকে চিহ্নিত করতে বললেও ওই নারী তা পারেননি। এতে পুলিশের সন্দেহ হলে ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় ওই নারী বলেন, মামলা সূত্রে ছগির নামের একজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ছগির নিজেই তাকে ধর্ষণ করে ২০ হাজার টাকার চুক্তিতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বলেন। এরপর বরগুনার সরকারি হাসপাতালের জাহিদ নামের এক কর্মচারীকে ফাঁসাতে ধর্ষণ মামলার অভিযোগ করতে থানায় পাঠান ছগির। তিনি জাহিদকে চেনেন না বা কখনো দেখেননি বলেও স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর হাসপাতালে কর্মরত জাহিদ বলেন, আমার সঙ্গে তাদের কোন পারিবারিক শত্রুতা নেই। তবে আমার স্ত্রীর বোনের সঙ্গে তার অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী স্বামী জহিরুল ইসলাম বাবুর সম্প্রতি ডিভোর্স হয়ে গেলে তারা আমার শালিসহ আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। আমার মনে হয় জহিরুল ইসলাম বাবুর ইন্ধনেই ছগির আমাকে ফাঁসাতে এই মামলা দিতে চেয়েছিলেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।

বরগুনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশি তদন্তে মিথ্যে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ওই নারী তার ভুল বুঝতে পেরে সত্যতা স্বীকার করেছে। নারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা প্রাথমিকভাবে ছগিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের প্রমান পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করেছি। 

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কাউকে ফাঁসানোর কোন সুযোগ নেই। বরগুনা সদর থানার পুলিশ সকল অভিযোগ শতভাগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বরগুনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।