কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর প্রেমারচর গ্রামের আনোয়ার হোসেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে শহীদ হন। ৫০ বছরে এসে তার কবর খুঁজে পেয়েছেন ভাতিজি রেহানা আক্তার।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, এলাকাবাসী এবং শহীদের ছোট ভাই মসূয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম শামছুদ্দিন জানান, সাত ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন আনোয়ার। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ও তার বড় ভাই ভারতের লোহারবন্দ থেকে প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধ করেন।

৩ অক্টোবর আনোয়ার ও তার সহযোগী কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় পাকিস্তান বাহিনীর একটি ক্যাম্প দখল করার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র রাজাকাররা তাদের লক্ষ্য করে গুলি শুরু করে। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে দলটি। পেছনে পড়ে পথ হারিয়ে ফেলেন আনোয়ার। ৪ অক্টোবর ভোরে রাজাকাররা তাকে একা পেয়ে গুলি করে হত্যা করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে দরিয়া পীরের মোকামে দাফন করেন।

দেশ স্বাধীনের পর একজন পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, মৌলভীবাজারের বড়লেখায় যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন আনোয়ার। তবে কোন জায়গায় শহীদ হয়েছেন, তা জানতে পারেননি। সম্প্রতি শামছুদ্দিনের মেয়ে এনজিওকর্মী রেহানা অফিসের প্রয়োজনে মৌলভীবাজার যান। পরে তিনি তার শহীদ চাচার কবরের খোঁজে বড়লেখায় যান।

বড়লেখা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুহাম্মদ সিরাজ উদ্দিনসহ স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাচার কবরের খোঁজ পান রেহানা। পরে বিষয়টি তিনি তার বাবাকে অবহিত করেন। স্থানীয় প্রশাসন ও লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তারা শহীদ আনোয়ারের কবরে একটি নামফলক স্থাপন করেন।

শামছুদ্দিন বলেন, 'আমার ভাইয়ের সহযোগী এবং মৃত্যুর পর লাশ দাফন জড়িত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে কবরের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি। আমার শেষ ইচ্ছা ছিল ভাইয়ের কবরটির সন্ধান লাভ। সে আশা পূরণ হওয়ায় আমি ভীষণ খুশি।'

মন্তব্য করুন