টাঙ্গাইল জেলা কালচারাল অফিসার রেদওয়ানা ইসলামকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। শনিবার বিকেলে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালের দোতলায় ১১ নম্বর কেবিনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই স্বামী দেলোয়ার হোসেন ওরফে মিজান পলাতক রয়েছেন। দেলোয়ার হোসেন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ভোলা শাখায় কর্মরত বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও কুমুদিনী হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত সোমবার সকালে প্রসব ব্যথা নিয়ে রেদওয়ানা ইসলাম হাসপাতালে ভর্তি হন। সকাল ১০টায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। শুক্রবার হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তবে মেয়ে অসুস্থ থাকায় তিনি হাসপাতালের দোতলার ১১ নম্বর কেবিনে থেকে যান। শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের তিনতলায় শিশু ওয়ার্ডে ইনকিউবেটরে রাখা হয়। গতকাল দুপুর ২টার দিকে রেদওয়ানা ইসলামের মামি খোদেজা বেগম শিশুটির পরিচর্যাকারী মর্জিনা বেগম শিশুটিকে মায়ের বুকের দুধ খাইয়ে পুনরায় তিনতলায় নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তারা ফিরে এসে কেবিনের দরজার তালা আটকানো দেখেন। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কেউ দরজা না খোলায় কর্তব্যরত নার্সকে তারা বিষয়টি জানান। পরে এক সেবিকা কেবিনটির দরজা অতিরিক্ত চাবি দিয়ে খুলে ভেতরে ঢুকে রেদওয়ানা ইসলামের মরদেহ দেখতে পান।

খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আতাউল গনি, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সিরাজুল ইসলাম আলমগীর, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) দীপঙ্কর ঘোষ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের হোসেন হাসপাতালে ছুটে যান।

হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক (অপারেশন) অনিমেষ ভৌমিক বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি তাৎক্ষণিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। 

সহকারী পুলিশ সুপুার দীপঙ্কর ঘোষ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইলের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার স্বামীকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।

মন্তব্য করুন