নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট বাজারের আজমিরী হোটেল নামে একটি রেস্টুরেন্টে মেয়র মির্জার নেতৃত্বে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয়রা জানায়, এসময় আবদুল কাদের মির্জা নিজে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক জসিম উদ্দিনকে বেদম মারধর করেন। এছাড়াও মির্জার লোকজনের হামলায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। 

প্রতিপক্ষের লোকজন ওই হোটেলে বসে আড্ডা দেওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে কাদের মিজা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আহতদের মধ্যে হোটেল মালিক জসিম উদ্দিনকে (৪২) কোম্পানীগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহতরা কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

জসিম উদ্দিন জানান, সন্ধ্যার দিকে আবদুল কাদের মির্জার প্রতিপক্ষের লোকজন ও তার ভাগিনা ফখরুল ইসলাম রাহাত, মাহবুবুর রশিদসহ কয়েকজন যারা সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী, তারা হোটেলে নাস্তা করতে আসেন। খবর পেয়ে রাত ৯টার দিকে মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে শতাধিক লোক তার হোটেলে হামলা চালায়। এ সময় তারা একটি স্কেভেটর মেশিন দিয়ে হোটেলের বাইরের সাইনবোর্ডসহ কিছু অংশ ভেঙে দেয়। পরে কাদের মির্জা নিজে হোটেলের ভিতরে ডুকে তাকেসহ কর্মচারীদের এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, হোটেলের মালিক অবৈধভাবে দোকানের বাইরে একটি অংশ নির্মাণ করেছে। রাস্তার সঙ্গে চুলা বসিয়ে রান্নাবান্না কাজ করছে তারা। এতে করে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়াও এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিনিয়ত বিঘ্ন ঘটছে। কয়েক মাস আগে তাকে অবৈধ অংশ ভেঙে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি তা না করে বিভিন্নভাবে তদবির করেন। তাই শনিবার রাতে তিনি পোরসভার কর্মচারীদের নিয়ে হোটেলের অবৈধ বর্ধিতাংশ ভেঙে দিয়েছেন। এছাড়াও হোটেল মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় হোটেল মালিক ও তার কর্মচারীরা পৌরসভার লোজনের ওপর হামলা করেছে। 

তিনি বলেন, রোববার সকালে হোটেল মালিক জসিমের ছোট ভাই পৌরসভায় এসে আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে গেছেন এবং পৌরসভার অ্যাকাউন্টে জরিমানার ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে গেছেন। আমার প্রতিপক্ষ মিজানুর রহমান বাদলের নির্দেশে তার লোকজন এবং কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি ও পরিদর্শক (তদন্ত) হোটেল মালিক জসিমকে আমার বিরুদ্ধে কথা বলতে প্ররোচিত করছেন। এ সবই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আমি পৌরসভাকে যানযট ও অবৈধ দখলমুক্ত করতে অভিযান শুরু করেছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল বলেন, আমার লোকজন একটি মিটিং শেষ করে আজমেরী হোটেলে চা-নাস্তা খেতে যান। তারা চা-নাস্তা খেয়ে বের হওয়ার পর কাদের মির্জার নেতৃত্বে শতাধিক লোক ওই হোটেলে হামলা চালিয়ে মালিক ও কর্মচারীদের মারধর শেষে দোকানের সামনের অংশ ভেঙে দেয়। কাদের মির্জা রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এ কাজ করেছেন। এতে তিনি অত্যন্ত নিচু মনের পরিচয় দিয়েছেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, কাদের মির্জা হোটেল মালিক জসিম উদ্দিনকে গত বুধবার সামনের অংশ ভেঙে ফেলার জন্য একটি নোটিশ দেন। এতে ১৫ দিন সময়সীমা বেধে দেওয়া হলেও চার দিনের মাথায় কাদের মির্জা ওই হোটেলে অভিযান চালিয়ে তা ভেঙে দেন। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল মালিকের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।